বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত তালিকা তৈরির সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

প্রকাশ:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় সভায় মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের নির্ভুল তালিকা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত তালিকা তৈরি করে প্রতিবেদন উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মো. মনিরুল হক চৌধুরী। সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

কমিটির বৈঠকে বিগত ছয় মাসে মন্ত্রণালয়ের গৃহীত কার্যক্রম ও বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা যাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সব ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে সক্রিয় করার লক্ষে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শও দিয়েছেন কমিটির সদস্যরা। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ প্রদান করা হয়। বৈঠকে বিগত ৬ মাসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং কমিটির সদস্য মো. আব্দুল হান্নান ও রোকেয়া বেগম। আলোচনায় আরও অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরের প্রতিনিধি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সভার শুরুতে গত বৈঠকের কার্যবিবরণী নিশ্চিত করা হয়। রিমান্ড শেষে কারাগারে এমপি গাজী নজরুল।

কমিটি তার পর্যবেক্ষণে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ ও প্রচারের ওপর জোর দিয়েছে। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধারা যেন যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা পান, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে সদা তৎপর থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের কল্যাণে কল্যাণ ট্রাস্টের ভূমিকা জোরদার করার মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

উল্লেখ্য যে, সংশ্লিষ্ট বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের চলমান প্রকল্পসমূহের স্বচ্ছতা বজায় রাখা ও দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা আহত হয়েছেন, তাদের জীবনমান উন্নত করতে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দ্রুততম সময়ে নিশ্চিত করতে সরকার ও মন্ত্রণালয়কে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন যে, এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে মুক্তিযোদ্ধাদের সামাজিক মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষিত হবে।

শেয়ার করুন