বাঞ্ছারামপুরে সংঘর্ষে নিহত ১, গুলিবিদ্ধ ৫

প্রকাশ:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার শান্তিপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে এই সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নামের একজন নিহত হয়েছেন। নিহত জুয়েল মিয়া নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা সেন্টু মিয়ার ছেলে।

সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত পাঁচজন গুলিবিদ্ধসহ আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জুয়েল মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি আহতরা বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এসময় উভয়পক্ষের অন্তত ৫ জন গুলিবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হন। এ সময় উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়ালে ৫/৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়। অপহরণের চার ঘণ্টা পর ছাত্রদল নেতার মরদেহ উদ্ধার।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শান্তিপুর গ্রামের আজগর আলী সরকার বাড়ি এবং সফু সরকার বাড়ির লোকজনের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে এলাকায় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লড়াই চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে গত ৩০ জুন উভয় পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এরপর থেকে সফু সরকারের সমর্থকরা এলাকাছাড়া ছিলেন। পেট্রলবোমা মেরে দোকানে আগুন, মুদিদোকানিকে কুপিয়ে হত্যা।

অভিযোগ উঠেছে, আজ সোমবার ভোরে সফু সরকারের নাতি মোক্তার হোসেনের নেতৃত্বে নরসিংদী থেকে লোকজন নিয়ে এসে প্রতিপক্ষের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এই হামলা থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষের সময় উভয়পক্ষই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করায় বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন।

বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এলাকা দুটির দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বই এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে কাজ করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা চলছে এবং ঘটনার যথাযথ তদন্ত করা হচ্ছে।

নিহত ও আহতদের বিস্তারিত পরিচয় এবং হামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করতে পুলিশ আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সংঘর্ষে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানিয়েছেন ওসি ইয়াছিন।

শান্তিপুর গ্রামের এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ হলে এই সহিংসতায় কার কী ভূমিকা ছিল তা স্পষ্ট হবে।

শেয়ার করুন