ফুটবলের নতুন দিগন্ত: খেলোয়াড় বাছাই থেকে কৌশল নির্ধারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জয়জয়কার

প্রকাশ:

আধুনিক ফুটবলে এখন আর কেবল মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ কথা নয়। মোহাম্মদ সালাহর মতো তারকা ক্লাব ছাড়লে তাঁর যোগ্য বিকল্প খুঁজে বের করা, ১৬ বছর বয়সী কাভান সুলিভানের মতো তরুণদের শারীরিক বিকাশের পূর্বাভাস পাওয়া কিংবা চোটের পর খেলোয়াড়দের মাঠে ফেরার সময় নির্ধারণ—সবকিছুতেই এখন বড় ভূমিকা রাখছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। ক্লাবগুলোর স্কাউট, চিকিৎসক ও কোচদের দীর্ঘদিনের শ্রমসাধ্য কাজকে এখন প্রযুক্তি সহজ করে দিচ্ছে।

খেলোয়াড় নিয়োগের ক্ষেত্রে মারকির মতো এআই প্ল্যাটফর্মগুলো বিপ্লব ঘটাচ্ছে। মারকির প্রতিষ্ঠাতা ডিন ব্রাখা জানান, বিভিন্ন ডেটা প্ল্যাটফর্মে আলাদা করে খোঁজার পরিবর্তে তাঁদের প্রযুক্তি চ্যাটজিপিটির মতো অভিজ্ঞতা দেয়। মেশিন লার্নিং মডেল ব্যবহার করে নির্দিষ্ট চাহিদার ভিত্তিতে ৫ বা ১০ জন খেলোয়াড়ের তালিকা তৈরি করা সম্ভব। এটি কেবল ব্যক্তিগত দক্ষতা নয়, বরং দলের কৌশলগত ব্যবস্থার সঙ্গে খেলোয়াড় কতটা মানানসই, তা-ও যাচাই করে। প্রিমিয়ার লিগের কয়েকটি ক্লাব ছাড়াও বার্সেলোনা ও এমএলএসের শিকাগো ফায়ার এই প্রযুক্তির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

ফুটবলে তথ্যের অভাব এখন আর সমস্যা নয়, বরং তথ্যের আধিক্য সামলানোই বড় চ্যালেঞ্জ। মারকি এই জটিল স্প্রেডশিটনির্ভর তথ্যগুলোকে একত্র করে ক্লাবের জন্য বিশ্লেষণ বিভাগের মতো কাজ করে। তবে ব্রাখা স্পষ্ট করেছেন, এটি কোনো ফুটবল ম্যানেজার গেম নয়; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ক্লাবের নিয়োগ বিভাগেরই থাকে।

চোট ব্যবস্থাপনায়ও এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। গত বছর এফসি সিনসিনাটির ম্যাচে ম্যাট মিয়াজগার চলাচলে অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করেছিল এআই, যা চোটের সংকেত দিয়েছিল। স্প্রিংবক অ্যানালিটিকসের মতো প্রতিষ্ঠান এমআরআই স্ক্যানের দ্বিমাত্রিক ছবি থেকে পেশির ত্রিমাত্রিক ডিজিটাল মডেল তৈরি করছে। এর অ্যানালিটিকস পরিচালক ম্যাট ব্রাউন জানান, এটি চোট সারানোর জাদুকরী সমাধান নয়, বরং জটিল তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। সাধারণত যে তথ্য চূড়ান্ত করতে এক সপ্তাহ লাগে, তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।

বয়সভিত্তিক ফুটবলে শারীরিক বিকাশের পরিমাপে ‘ফিট: ম্যাচ’ নামের প্রযুক্তিটি বেশ কার্যকর। এটি স্মার্টফোনের মাধ্যমে চারটি ছবি তুলেই খেলোয়াড়ের উচ্চতা, শরীরের ভর ও বিকাশের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করে। হানিফ ব্রাউন একে ‘ফুটবলের চ্যাটজিপিটি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। পেশাদার ক্লাবগুলোতে প্রচলিত মূল্যায়নপ্রক্রিয়া এটি ৩০ সেকেন্ডের কম সময়ে সম্পন্ন করতে পারে। এর ফলে দেরিতে বিকশিত হওয়া প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের শনাক্ত করা সহজ হয়, যা তাদের ব্যবস্থার বাইরে ছিটকে পড়া থেকে রক্ষা করে।

কোচিংয়ের কৌশলেও এআইয়ের ছোঁয়া লেগেছে। সিয়াটল রেইনের প্রধান কোচ লরা হার্ভি ২০২৫ সালের অক্টোবরে জানিয়েছিলেন, তিনি কৌশল নির্ধারণে চ্যাটজিপিটির সাহায্য নিয়েছেন। লিগের ১৪টি দলের মধ্যে দুটির বিপক্ষে এআই তাঁকে পাঁচজন ডিফেন্ডার নিয়ে খেলার পরামর্শ দিয়েছিল। সেই কৌশল অবলম্বন করে সিয়াটল রেইন আগের বছরের চেয়ে আট ধাপ ভালো অবস্থানে থেকে মৌসুম শেষ করে। এছাড়া রবিন ফ্রেজারও ফরমেশন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় এআই ব্যবহার করেছেন।

পরিশেষে, ফুটবলে এআই মানুষের বিকল্প হয়ে ওঠেনি। এটি কেবল তথ্য ও ধারণার যোগান দেয়, যা গ্রহণ বা বর্জনের সিদ্ধান্ত মানুষের হাতেই থাকে। খেলোয়াড় বাছাই থেকে শুরু করে মাঠের কৌশল পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে এআই এখন একটি শক্তিশালী সহায়ক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মোহাম্মদ সালাহ লিভারপুল ছেড়ে গেছেন, তাঁর জায়গায় কে আসতে পারেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১৬ বছর বয়সী কাভান সুলিভান কি শারীরিকভাবে সমবয়সীদের চেয়ে এগিয়ে, নাকি পিছিয়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উত্তর খোঁজার প্রক্রিয়া ও ব্যক্তিরাও আলাদা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে এখন সেই কাজের অনেকটাই ঢুকে পড়ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) জগতে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফুটবলে প্রযুক্তিটির ব্যবহার এখনো পুরোদমে চালু হয়নি, কিন্তু ক্রমেই বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ধরা যাক, লিভারপুলকে সালাহর বিকল্প খুঁজতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শুধু গোল করতে পারেন, এমন একজন খেলোয়াড় খুঁজলেই হবে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নতুন কোচের অধীন দলের খেলার ধরন বদলালে নতুন খেলোয়াড়কে সেই কৌশলের সঙ্গেও মানিয়ে নিতে হবে।

শেয়ার করুন