ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে টানাপোড়েন

প্রকাশ:

সন্ত্রাসবাদ দমন, বাণিজ্য নীতি এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতার মাঝেও এখন বড় ধরনের টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্য ও এশিয়া সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে প্রদত্ত ভাষ্যে এই মতপার্থক্যের চিত্র ফুটে উঠেছে। সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের একাধিক বক্তব্যে সেই অবস্থানের প্রকাশ ঘটেছে। ভারতের সন্ত্রাসবাদসংক্রান্ত উদ্বেগকে যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট গুরুত্ব ও সহানুভূতির সঙ্গে দেখছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। ফলে বিষয়টি ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাণিজ্যিক সম্পর্কে বড় চাপের জায়গাগুলোর একটি হলো শুল্কনীতি। ২০২৫ সালে দুই দেশের পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৪৯ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ভারতের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল ৫৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। তবে কৃষি খাতের সংবেদনশীলতাসহ কাঠামোগত পার্থক্যের কারণে এখনো কোনো চূড়ান্ত বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। জয়শঙ্করের মতে, বাণিজ্য আলোচনার অগ্রগতি প্রত্যাশার চেয়ে ধীর এবং রাশিয়ার তেল কেনা দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির বিষয়ে মোটামুটি একটি বোঝাপড়া তৈরি হলেও বাস্তবতার কারণে অগ্রগতি প্রত্যাশার তুলনায় ধীর হয়েছে। ভারত কাশ্মীরসহ দুই দেশের বিরোধকে দ্বিপক্ষীয় বিষয় হিসেবে দেখে এবং তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে।

সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে নয়াদিল্লির উদ্বেগ অনেক পুরনো। জয়শঙ্কর স্পষ্ট করেছেন যে, ভারতের দীর্ঘদিনের প্রতিবেশী দেশকেন্দ্রিক সন্ত্রাসবাদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যথেষ্ট সহানুভূতি বা বোঝাপড়ার অভাব রয়েছে। কাশ্মীর সংকটসহ ভারত-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি কার্যকরের মধ্যস্থতা করার দাবির বিপরীতেও নয়াদিল্লি নিজের তীব্র অসন্তোষ জানিয়ে এসেছে। জয়শঙ্কর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদের মুখোমুখি হয়েছে ভারত। অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় নয়াদিল্লির উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন।

অভিবাসন নীতি এবং এইচ-১বি ভিসা নিয়েও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। জয়শঙ্করের ভাষায়, মানুষের চলাচলকে অর্থনৈতিক সুবিধা হিসেবে দেখার পুরোনো ধারা এখন রাজনীতি ও অর্থনীতির সংঘাতের মুখে পড়েছে। এর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং পাকিস্তানকেন্দ্রিক মার্কিন নিরাপত্তা নীতির পার্থক্য ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের সমীকরণে বড় ভূমিকা রাখছে।

তবে সম্পর্কের এই টানাপোড়েনের মধ্যেও উভয় পক্ষ যোগাযোগ বজায় রাখছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, মতপার্থক্য থাকলেও দেশগুলো সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে ফেলার পথে নেই; বরং বাণিজ্যচুক্তি সম্পন্ন হওয়া সম্পর্কের পরবর্তী গতিপথের বড় নির্ণায়ক হতে পারে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা

  • জাতিসংঘের মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন রেবেকা গ্রিনস্প্যান।
  • বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম পুনরায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ ঘিরে বাংলাদেশসহ ৭৭ দেশের কূটনীতিক ওয়াকআউট করেছেন।
  • অস্ট্রেলিয়া সরকার বিদেশি শিক্ষার্থীদের পরিবার আনার সুযোগ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
  • ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চীনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
  • ট্রাম্পের অভিযোগ, সৌদি আরবের তেল পাইপলাইনে হামলার পেছনে ইরানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
  • প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বৈরাচার ও গুপ্তচরেরা পুনরায় জোটবদ্ধ হয়েছে।
  • রাজনীতি নিয়ে মন্তব্যে তিনি আরও বলেন, জামায়াত যা করতে ব্যর্থ হয়েছিল, বিএনপি তা সম্পন্ন করেছে।
  • মোজতবা খামেনি দাবি করেছেন, ইরানের শক্তির আসল উৎস হলো নামাজ।
  • সরকার নির্দেশ দিয়েছে, এলপিজি গ্যাসের নির্ধারিত দাম নিশ্চিত করতে হবে; অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • সূত্র: আলজাজিরা।
  • স্বৈরাচার ও গুপ্ত আবার একসাথে হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী।
  • সন্ত্রাসবাদ থেকে শুল্ক, আরও প্রকাশ্যে ট্রাম্প-মোদির বিরোধ।
শেয়ার করুন