মন্ত্রিসভায় আসছে রদবদল: নতুন মুখ ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের আভাস

প্রকাশ:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে। এই সময়ে মন্ত্রণালয়গুলোর কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে সরকারপ্রধান এখন মন্ত্রিসভায় রদবদল ও নতুন মুখ যুক্ত করার পরিকল্পনা করছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

সরকার ও বিএনপিদলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২২ আগস্টের মধ্যে মন্ত্রিসভার অন্তত তিনটি মন্ত্রণালয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদটি গত ১ জুন অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পর থেকে খালি রয়েছে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি দায়িত্ব ছাড়ায় বর্তমানে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

নতুন মন্ত্রী হিসেবে বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীর নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে গুঞ্জন চলছে। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছেন এবং সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিত বার্তা পাননি।

এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরপরই মন্ত্রিসভার এই রদবদল চূড়ান্ত হতে পারে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের জন্য বঙ্গভবনে যাওয়ায় এই মন্ত্রণালয়ে পূর্ণ মন্ত্রীর পদটি খালি হচ্ছে। গুঞ্জন রয়েছে, একজন সিনিয়র মন্ত্রীকে এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে যে, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তর করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কে পাবেন, তা নিয়ে ব্যাপক কৌতুহল রয়েছে। অনেকের মতে, সালাহউদ্দিন আহমদ সরলে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে এ বিষয়ে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাকে নিয়ে ছড়ানো এসব খবরে তিনি বিব্রত।

মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে টেকনোক্রেট কোটায় নতুন মুখ আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী, সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং ড. আসাদুজ্জামান রিপনের নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়াও সংসদের হুইপদের মধ্য থেকেও কাউকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে নির্যাতন ও মামলার শিকার হওয়া ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে শামসুজ্জামান দুদু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও হাবিব উন নবী খান সোহেলের মতো নেতাদের মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম ৬ মাস অতিক্রম করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরকারের শীর্ষ মহল থেকে বুধবার বিকাল পর্যন্ত তাদের নিশ্চিত করা হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসাবে শপথ নেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রায় দুই মাসের মাথায় নতুন মন্ত্রী পেতে যাচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে তার মন্ত্রণালয়ে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্বে এ মুহূর্তে কেউ নেই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন হলে সংসদের পাশাপাশি বিএনপি ও সমমনা দলের দু-একজন নেতা টেকনোক্রেট কোটায় মন্ত্রিসভায় নতুন করে জায়গা পেতে পারেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিএনপির ‘বঞ্চিত’ বলে আলোচনায় থাকা নেতারাও মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের দিকে তাকিয়ে আছেন।

শেয়ার করুন