বাগেরহাটের মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়াতে চীনের সঙ্গে ৩ হাজার ৫৯২ কোটি ৮৯ লাখ টাকার একটি সহজ শর্তের ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ‘মোংলা বন্দরের সুবিধাদি সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন’ প্রকল্পের আওতায় এই অর্থায়ন করছে চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক (এক্সিম ব্যাংক)। সম্প্রতি ঢাকায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) এই চুক্তি সই হয়। এতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে স্বাক্ষর করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যুগ্মসচিব আলিয়া মেহের এবং চীনের এক্সিম ব্যাংকের পক্ষে সই করেন ব্যাংকটির অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার ফেনজঝুন টিয়ান।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রকল্পটির জন্য চীন সরকার দুই শতাংশ সুদে এই নমনীয় ঋণ সহায়তা প্রদান করবে। এই ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ২০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বন্দরের বিদ্যমান সক্ষমতা বাড়াতে এই প্রকল্পের অধীনে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিসহ দুটি নতুন কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও কনটেইনার ইয়ার্ড, কনটেইনার ডেলিভারি ইয়ার্ড এবং কার্গো হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড নির্মাণের মাধ্যমে পণ্য ওঠানো-নামানো ও সংরক্ষণের সুবিধা আধুনিক করা হবে।
এ বিষয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বন্দরের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে। পণ্য ও কনটেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত হলে বন্দরের সেবার মান ও কার্যদক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে মোংলা বন্দরের গুরুত্ব ও ভূমিকা আরও সুদূরপ্রসারী হবে।
নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ এগিয়ে গেলে মোংলা বন্দরের কার্যক্রম বিশ্বমানের আধুনিকায়নের পথে উল্লেখযোগ্যভাবে অগ্রসর হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই আধুনিকায়ন প্রকল্প সম্পন্ন হলে বন্দরের পণ্য খালাস ও ব্যবস্থাপনায় গতি আসবে এবং ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে। প্রকল্পটি বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে মোংলা বন্দরের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








