লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ভোলাকোট ইউনিয়নের আথাকরা বাজারে রোববার বিকেলে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রবাসী মনির হোসেন ও তার স্ত্রী-সন্তানের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় দ্রুত বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। গত বছরের ২৮ জুন চিকিৎসার জন্য মনির হোসেন তার প্রতিবন্ধী ছেলে নাঈম (১৮) এবং অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (৩৬) নিয়ে ঢাকায় যান। চিকিৎসকের সিরিয়াল না পাওয়ায় তারা মগবাজারের একটি হোটেলে অবস্থান নেন।
পরিবারের অভিযোগ, ওই হোটেলে অবস্থানকালে তাদের বাড়ির কেয়ারটেকার মোহাম্মদ রফিক মিয়া (৫৫) খাবার সরবরাহ করেন। সেই খাবারে বিষ মিশিয়ে দেওয়ার ফলে তারা তিনজনই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরদিন তাদের রাজধানীর আদ্-দীন হাসপাতালে ভর্তি করা হলে স্বপ্না আক্তার মারা যান। এরপর নাঈম এবং দুপুরের দিকে মনির হোসেনও মৃত্যুবরণ করেন। চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে খাদ্যে বিষক্রিয়াকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। এ ঘটনায় গত বছরের ১ জুলাই মনিরের ভাই প্রবাসী নূরুল আমিন বাদী হয়ে রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহত মনিরের ভাই নূরুল আমিনের অভিযোগ, কেয়ারটেকার রফিক পরিকল্পিতভাবে তার ভাই, ভাবি ও ভাতিজাকে হত্যা করেছেন। তার দাবি, রফিক মনিরের অর্থ-সম্পদ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। মামলার পর রফিক গ্রেপ্তার হলেও বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে পিবিআই ডিএমপির ঢাকা দক্ষিণের পরিদর্শক কামরুজ্জামান শিকদার সম্প্রতি রামগঞ্জের দেহলা গ্রামে নিহত মনিরের বাড়িতে যান। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। মনির হোসেন ওই গ্রামের ছেরাজুল হক বেপারী বাড়ির আব্দুল মান্নানের ছেলে ছিলেন। তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হলেও পিবিআই জানিয়েছে, তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
পিবিআই পরিদর্শক কামরুজ্জামান শিকদার জানান, রফিক নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং তদন্তের প্রয়োজনে তাকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তদন্তের স্বার্থেই তারা গ্রামে এসেছেন এবং প্রকৃত দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত বছরের (২০২৫ সালের) ২৮শে জুন মনির হোসেন প্রতিবন্ধী ছেলে নাঈম (১৮) ও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী স্বপ্না আক্তার (৩৬)কে নিয়ে ঢাকায় চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু চিকিৎসকের সিরিয়াল না পাওয়ায় ওই রাত স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মগবাজার একটি হোটেলে অবস্থান করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চিকিৎসকরা খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সে আমার ভাইয়ের অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ করেছে।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








