মফস্বল সাংবাদিকতার বাস্তবতা অত্যন্ত নির্মম ও চ্যালেঞ্জিং। জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিকতার চেয়ে মফস্বলের কাজের পরিবেশ অনেক বেশি কঠিন, কারণ এখানে সাংবাদিককে একই সাথে প্রশাসন, আদালত, থানা, হাসপাতাল ও রাজনৈতিক কর্মসূচিসহ নানা বিষয়ের খবর সংগ্রহ করতে হয়। অথচ প্রভাবশালী মহলের দুর্নীতি বা অপরাধের খবর প্রকাশ করলেই তাদের নানা ধরনের হুমকি ও চাপের মুখে পড়তে হয়। সম্প্রতি শরীয়তপুরে তিন সাংবাদিকের ওপর হামলা এবং আরেক সাংবাদিককে হুমকির ঘটনা এই পেশার ঝুঁকির বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শরীয়তপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে রাজনৈতিক কর্মসূচি কাভার করতে গিয়ে ডেইলি স্টারের সাংবাদিক জাহিদ হাসান, নিউজ টুয়েন্টিফোর ও জাগো নিউজের প্রতিনিধি বিধান মজুমদার হামলার শিকার হন। অভিযোগ রয়েছে, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লা এই হামলার সঙ্গে জড়িত। ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বিকেলে জাজিরা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি পলাশ খান বিষয়টি সম্পর্কে বক্তব্য জানতে আরিফুজ্জামান মোল্লাকে ফোন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই ফোনালাপে আরিফুজ্জামান মোল্লা সাংবাদিকদের ওপর আরও হামলার হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তোমরা লেখবা, আমরা পিডাইমু।’ এমনকি পলাশ খানকেও তিনি হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পলাশ খান জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি পুলিশকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন এবং দ্রুতই লিখিতভাবে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, তারা সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়টি অবগত আছেন এবং লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের প্রতিক্রিয়া আরও দ্রুত ও নিরপেক্ষ হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশে একজন সাংবাদিক কতটা নিরাপদে সত্য লিখতে পারেন, তা আজ বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা অনেক সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নকে শত্রুতা হিসেবে দেখেন; আবার যারা বিরোধী দলে আছেন, তারাও ক্ষমতায় গেলে একই ধরনের আচরণ করেন। এই দ্বিমুখী অবস্থান গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য বড় বাধা। সাংবাদিকরা দুর্নীতির খবর দেন, অনিয়ম তুলে ধরেন এবং নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ান। তাই শরীয়তপুরের এই ঘটনা কেবল একটি স্থানীয় বিরোধ নয়, বরং এটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর একটি বড় আঘাত।
সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা হুমকির ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, অভিযোগ গ্রহণে পুলিশের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া এবং দ্রুত আইনি সহায়তা প্রদান করা এখন সময়ের দাবি। সাংবাদিকরা নির্ভয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দলগুলোর ওপরই বর্তায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মফস্বল সাংবাদিকতার বাস্তবতা আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিজে মফস্বল পর্যায়ে সাংবাদিকতা করে আসার কারণে এই পেশার আনন্দ যেমন জানি, তেমনি এর নির্মম বাস্তবতাও আমার অজানা নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেখানে যাকে নিয়ে সকালে সংবাদ লিখছেন, বিকেলে হয়তো তার সঙ্গেই একই রাস্তায় দেখা হচ্ছে; যে কর্মকর্তার অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন করেছেন, পরদিন সেই অফিসেই আবার যেতে হচ্ছে; যে রাজনৈতিক নেতার কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, বাজারে, সামাজিক অনুষ্ঠানে কিংবা কোনো জনসমাগমে তার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখানে উল্লেখ্য যে ছাত্রজীবনে হাত ধরেই আমার সাংবাদিকতার হাতেখড়ি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সেই সময় থেকেই অনিয়ম, দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস এবং রাজনৈতিক অসততার বিরুদ্ধে কলম ধরেছি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু কোনো অন্যায়ের সঙ্গে কখনো আপস করিনি।
সূত্র: মানবজমিন








