সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাকের স্বাক্ষর জাল করে ১০০ কোটি টাকা ঋণের অপচেষ্টা

প্রকাশ:

ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এবং ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাকের স্বাক্ষর ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জাল করে ১০০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার একটি বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতারক চক্রটি ভুয়া নথিপত্র তৈরি করে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। বিষয়টি জানার পর গত শুক্রবার নবাবগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন সংসদ সদস্য। আজ মঙ্গলবার তিনি সাংবাদিকদের কাছে পুরো বিষয়টি তুলে ধরেন।

জিডিতে সংসদ সদস্য উল্লেখ করেন, বিশ্বস্ত সূত্রে তিনি জানতে পেরেছেন যে অজ্ঞাতনামা বিবাদীরা তাঁর এনআইডি কার্ড ব্যবহার করে প্রতারণামূলকভাবে ভুয়া ডকুমেন্ট তৈরি করেছে। ভুয়া ঋণের চুক্তিপত্র ও অঙ্গীকারনামায় দাবি করা হয়েছে যে, খন্দকার আবু আশফাক ১০০ কোটি টাকা ঋণ নিতে আগ্রহী এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের মাধ্যমে সেই অর্থ পরিশোধ করা হবে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তাঁর অনুমতি ছাড়া স্বাক্ষর বা এনআইডি ব্যবহার করে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা কর্মকাণ্ড পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই।

ঘটনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে খন্দকার আবু আশফাক জানান, সম্প্রতি একটি চক্র তাঁর কাছে বিভিন্ন কাজের তদবির নিয়ে ঘোরাফেরা করছিল। একপর্যায়ে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে ঋণ চুক্তির অঙ্গীকারনামার কপি পাঠানো হয়। একই ধরনের কপি কৈলাইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি খায়ের হোসেনের কাছেও পৌঁছালে তিনি বিষয়টি সংসদ সদস্যকে অবহিত করেন। এভাবে একাধিকবার ঘটনাটি সামনে আসার পর তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি জানানোর সিদ্ধান্ত নেন।

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু হানিফ জানিয়েছেন, সংসদ সদস্যের করা জিডিটি গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করা হয়েছে এবং অভিযোগটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এই জালিয়াতির সাথে কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে এই ভুয়া নথিপত্র তৈরি করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সংসদ সদস্য আশা প্রকাশ করেছেন যে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শেয়ার করুন