সমুদ্র ও নৌপথের সঠিক পরিকল্পনাই সার্বভৌমত্ব রক্ষার চাবিকাঠি: নাহিদ ইসলাম

প্রকাশ:

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চবি শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: প্রতিরোধ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সমুদ্র ও নৌপথকে সুপরিকল্পিতভাবে সাজাতে পারলে দেশের সার্বভৌমত্ব আরও শক্তিশালী হবে। তিনি বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে তিন দিকে ভারতবেষ্টিত বাংলাদেশে সমুদ্রই বিশ্বের সাথে যোগাযোগের একমাত্র উন্মুক্ত পথ। এই সমুদ্র বন্দরই বাংলাদেশকে স্বনির্ভরতা দিয়েছে এবং দিল্লির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে সাহায্য করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ খাতের নেতৃত্ব চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই আসা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার সংস্কার ও বিচারের দাবিতে কথা বললেও ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রশ্নে উল্টো পথে হাঁটছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভার প্রধানমন্ত্রীর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে, যা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে যেকোনো সরকারই স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে উঠতে পারে। গণঅভ্যুত্থানের কর্তৃত্ব দাবি করা অনেক রাজনৈতিক দলই আন্দোলনের সময় নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ক্যান্টনমেন্টে আশ্রয় নিয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে একটি অসমাপ্ত কাজ হিসেবে অভিহিত করে নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি অনেকের প্রত্যাশা থাকলেও তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবেন, এমনটি অনেকে ভাবেননি। বরং আওয়ামী লীগকে বিরোধী দলে রেখে পুনরায় ক্ষমতায় আনার একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছিল। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর তৎকালীন ভূমিকার কঠোর বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঢাকার পর চট্টগ্রামই ছিল আন্দোলনের প্রধান দুর্গ, যার সূত্রপাত হয়েছিল এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই। আগামী দিনে জনগণের স্বার্থে যেকোনো আন্দোলনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোজাম্মেল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ সোহাইব, এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার তুষার ও আলী আহসান জুনায়েদ এবং জাতীয় ছাত্র শক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের সমুদ্র-নৌপথকে আমরা যদি পরিকল্পনা মাফিক সাজাতে পারি, শক্তিশালী করতে পারি, তাহলে আমাদের সার্বভৌমত্বকে আমরা শক্তিশালী করতে পারব।

এখন যারা গণঅভ্যুত্থানের কর্তৃত্ব দাবি করছে, তারা সবার আগে ক‍্যান্টনমেন্ট চলে গেছেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বটা হচ্ছে পুরা চট্টগ্রাম বিভাগকে নেতৃত্ব দেওয়া।

পাঁচ মাসের মধ্যে জনগণ কথা বলতে শুরু করেছে।’

কেন আমরা পারিনি সেজন্য আমাদের দায়ী করতে পারেন।

কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, সেসময় আমরা কারও সমর্থন পাইনি।

আমরা জানি ঢাকার পরে সবচেয়ে বেশি আন্দোলন হয়েছে, আন্দোলনের দুর্গ হিসেবে গড়ে উঠেছিল চট্টগ্রাম শহর; যেটা সূত্রপাত ঘটেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

আগামীতেও যদি কোনো ধরনের এরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়, জনগণের পক্ষে কোনো আন্দোলন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্যই অংশগ্রহণ করবে।’

ফলে বাংলাদেশে এজন্য কখনোই আমরা ভারতের দিল্লির ওপর নির্ভরশীল হইনি।

শেয়ার করুন