হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতি তেল ট্যাংকারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা কাতারের

প্রকাশ:

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাডনক’-এর (ADNOC) একটি তেল ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে কাতার। দোহা এই সামরিক পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন, সামুদ্রিক নৌচলাচলের স্বাধীনতা এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮১৭ নম্বর প্রস্তাবের সুস্পষ্ট ও চরম লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। শনিবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালীকে রাজনৈতিক বা সামরিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের যেকোনো প্রচেষ্টাকে কাতার প্রত্যাখ্যান করে। সামুদ্রিক বাণিজ্যিক চলাচলের নিরাপত্তা বজায় রাখতে এই প্রণালীটি শর্তহীনভাবে উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছে দোহা। কাতার সতর্ক করে বলেছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দীর্ঘ সময় ধরে ঝুঁকিপূর্ণ বা অবরুদ্ধ থাকলে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্যই নয়, বরং সমগ্র বিশ্ব অর্থনীতির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

প্রতিবেশী ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর সম্পদ এবং বাণিজ্যিক কাঠামোর ওপর ইরানের এ ধরনের অযৌক্তিক সামরিক হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছে কাতার। সংকটময় এই মুহূর্তে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) সাথে কাতার পূর্ণ রাজনৈতিক ও নৈতিক সংহতি প্রকাশ করেছে। দেশটির সার্বভৌমত্ব, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সম্পদ রক্ষায় আমিরাত সরকার যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তাতে দোহার পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা বিঘ্নিতকারী এই সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক স্থিতিশীলতাকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছে কাতার। কাতার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MOFA) তথ্যসূত্র অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের স্বাধীনতা একটি মৌলিক ও অলঙ্ঘনীয় নীতি, যা যেকোনো মূল্যে সমুন্নত রাখা প্রয়োজন।

শেয়ার করুন