চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পুরোনো জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে ১০ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত সাত সদস্যের বিশেষজ্ঞ তদন্ত দল শিল্প মন্ত্রণালয়ে তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। গত বুধবার কয়েক দফা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর এই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। তদন্ত দলের প্রধান ও বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ইয়াসির আরাফাত খান শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঘটনাস্থলে হাইড্রোজেন সালফাইডের অস্তিত্বের প্রমাণ মিলেছে। তাদের ধারণা, জাহাজটির ট্যাংকের ভেতরে থাকা পানিতে এই গ্যাস দ্রবীভূত অবস্থায় ছিল। ট্যাংকের পানি অপসারণের সময় গ্যাসটি বেরিয়ে আসে এবং শ্রমিকরা এর সংস্পর্শে আসার পরপরই দুর্ঘটনার শিকার হন। বর্তমানে বাতাসে গ্যাসটির উপস্থিতি না থাকলেও, দুর্ঘটনার সময় পানির মাধ্যমেই এটি ছড়িয়ে পড়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের ওই পুরোনো জাহাজটিতে মোট চারটি ট্যাংক ছিল। বিশেষজ্ঞ দলের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে একটি ট্যাংকের কাজ আগে সম্পন্ন হলেও দুর্ঘটনাটি ঘটে তিন নম্বর ট্যাংকে। শুক্রবার যখন ব্যালাস্টের পানি বের করার কাজ চলছিল, তখনই পানিতে দ্রবীভূত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস আকারে নির্গত হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও গ্যাসের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে জাহাজ থেকে সংগৃহীত নমুনা ঢাকার ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত বিশ্লেষণ শেষে গ্যাসটি কীভাবে তৈরি বা জমা হয়েছিল, তা স্পষ্ট হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ আগস্ট সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীর ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডে এই মর্মান্তিক গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন শ্রমিকের মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও পাঁচজন মারা যান। সাত সদস্যের এই তদন্ত দলে বুয়েট ছাড়াও বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির পরিচালক ক্যাপ্টেন শোয়েব আহমেদ এবং বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক মোহাম্মদ মেহেদি ইসলাম খানসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








