টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার জামুকী ইউনিয়নের উফুল্কী গ্রামের ঘোষপাড়ায় এখন কর্মব্যস্ত পরিবেশ। গ্রামের অধিকাংশ বাড়িতেই শোনা যাচ্ছে দুধ ভাঙানোর মেশিনের শোঁ শোঁ শব্দ। কেউ হাত দিয়ে আবার কেউ বিদ্যুতের সাহায্যে এই যন্ত্র চালিয়ে দুধ থেকে মাখন, ঘি, ছানা ও টক দই তৈরি করছেন। পূর্বপুরুষের আমল থেকে চলে আসা এই পেশাকে আঁকড়ে ধরে এখনো টিকে আছেন শতাধিক পরিবারের নারী-পুরুষ। এদের মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় ৮০ জন এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রায় ২০ জন সদস্য নিয়মিত এই কাজে যুক্ত রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে এই কর্মযজ্ঞ। গড়ে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ মণ দুধ প্রক্রিয়াজাত করা হয়, তবে চাহিদার ভিত্তিতে কোনো কোনো দিন এই পরিমাণ ৫০ মণে নেমে আসে। স্থানীয় বাসিন্দা রতন ঘোষ জানান, মির্জাপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন বাজার থেকে দুধ সংগ্রহ করা হয়। যেমন, শুক্রবার দেলদুয়ার বাজার থেকে প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে চার মণ দুধ কেনা হয়েছে। এছাড়া গীতা রানী ঘোষ জানান, অর্ডারের ওপর ভিত্তি করে প্রতিদিন ৮ থেকে ১৪ মণ দুধ প্রক্রিয়াজাত করা হয়।
উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে দীপক কুমার ঘোষ জানান, এক মণ দুধ থেকে গড়ে সোয়া কেজি ঘি এবং মিষ্টি তৈরির জন্য সাত থেকে আট কেজি ছানা পাওয়া যায়। তিনি আরও বলেন, ছানার তুলনায় টক দই তৈরিতে লাভ বেশি হওয়ায় বর্তমানে অনেকেই সেদিকে ঝুঁকছেন। তার হিসাব অনুযায়ী, প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে এক মণ দুধ কিনতে খরচ হয় ২ হাজার ৪০০ টাকা। শ্রমিকের মজুরি ও জ্বালানি খরচ মিলিয়ে মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ৯০০ টাকা। এক মণ দুধ থেকে ঘি ও ছানা তৈরি করে আয় হয় ৩ হাজার ৪০ থেকে ৩ হাজার ২৬০ টাকা, যেখানে লাভ থাকে ৩০০ টাকার কিছু বেশি। অন্যদিকে, টক দই তৈরি করলে আয় হয় প্রায় ৩ হাজার ২০০ টাকা, যার ফলে লাভ দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা।
এই পেশার সঙ্গে যুক্ত আবদুল খালেক জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি এই কাজের সঙ্গে জড়িত। শীতকালে ঘিয়ের চাহিদা ও দাম বেশি থাকে বলে তখন আয় ভালো হয়। গ্রামের আরেক বাসিন্দা অনিল চন্দ্র ঘোষ বলেন, যুগ যুগ ধরে তাদের পূর্বপুরুষরা এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, যা এখনো চলমান। উৎপাদিত এসব পণ্য মির্জাপুর বাজার, টাঙ্গাইল, ঢাকার কেরানীগঞ্জ, চকবাজার, কচুক্ষেত ও নারায়ণগঞ্জে সরবরাহ করা হয়।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য সুশীল চন্দ্র গোপ জানান, ঘোষপাড়ার শতাধিক পরিবারের সদস্যরা এই পেশার ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া এখান থেকে পাইকারি দরে টক দই কিনে ফেরি করে বিক্রি করেন ৮০ জনের বেশি মানুষ। তিনি মনে করেন, সরকারি সহযোগিতা পেলে এই পৈতৃক পেশা আরও ভালোভাবে ধরে রাখা সম্ভব হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যন্ত্রের ওপরের পাত্রে ঢালা হচ্ছে দুধ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অন্য পাশ দিয়ে বের হওয়া পাতলা দুধ থেকে তৈরি হচ্ছে ছানা ও টক দই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্থানীয় লোকজন এই যন্ত্রকে ‘দুধ ভাঙানোর মেশিন’ নামে চেনেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিদ্যুৎ–চালিত মেশিনে এর পরিমাণ আরও বেশি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মাল বেশি গেলে ১২–১৪ মণ, আর কম হইলে ৮–১০ মণ দুধ আসে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হ্যারা (পুরুষ) ভাঙাইলে আমি দুধ মেশিনের ওপর দিয়া দিই।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কথা বলার এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ছোটবেলা থিকাই কাজ করি।
সূত্র: প্রথম আলো








