ইস্তাম্বুলে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রথম বৈঠক আজ: আলোচনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতা

প্রকাশ:

মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্টের আওতায় গঠিত স্ট্র্যাটেজিক পলিটিক্যাল অ্যান্ড ডিফেন্স কমিটির উদ্বোধনী বৈঠক আজ সোমবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে শুরু হচ্ছে। পাকিস্তান ও তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। গত আগস্ট মাসে স্বাক্ষরিত এই প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক, যেখানে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন।

বৈঠকে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করছেন উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এবং চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে তুরস্ক ও সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা প্রধানরাও উপস্থিত থাকবেন। গত ৭ আগস্ট পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, যা ‘মক্কা প্যাক্ট’ নামেও পরিচিত। চুক্তির শর্তানুযায়ী, স্বাক্ষরকারী যেকোনো দেশের ওপর আগ্রাসনকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে, যা অনেকটা ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর আদলে তৈরি।

বৈঠকের মূল এজেন্ডায় রয়েছে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদার করা। এছাড়া প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উৎপাদন ও উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হবে। ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করা এই জোটের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার মতো ঘটনাগুলো এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতায় বড় প্রভাব ফেলেছে। পাকিস্তান এই সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করলেও, ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর নীতি পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

তুরস্ক জানিয়েছে, ‘আর-৪’ নামে পরিচিত এই গোষ্ঠীর লক্ষ্য হলো কার্যকর ব্যবস্থার মাধ্যমে পারস্পরিক অংশীদারত্ব শক্তিশালী করা। ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তির অধিকারী তুরস্ক আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এই চুক্তি সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে এবং সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে মিশরের নামও আলোচনায় আছে। তবে এই জোট বিদ্যমান কোনো মিত্রতাকে প্রতিস্থাপন করবে না বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।

এদিকে, এই চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়ে সৌদি আরব ও তুরস্ক ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। রোববার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রেসিডেন্ট এরদোগান এক্সে দেওয়া পোস্টে উল্লেখ করেছেন, সম্মিলিত প্রতিরোধের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত আত্মরক্ষার অধিকারকে পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, এই জোট সব ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের অংশগ্রহণের জন্য উন্মুক্ত। এর মাধ্যমে নিরাপত্তা সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ প্রকল্প এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখার আশা প্রকাশ করেছে তুরস্ক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই চুক্তিকে সংক্ষেপে মক্কা প্যাক্ট বলেও অভিহিত করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর প্রেক্ষিতে দেশ তিনটির মধ্যে সম্মিলিত সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ও আলোচনায় আসবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ২৮শে ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক শক্তিগুলো নিরাপত্তা সম্পর্ক আরও জোরদারের উদ্যোগ নিচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশও জড়িয়ে পড়েছে এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

শেয়ার করুন