আফগানিস্তান থেকে ইরাক, লিবিয়া, সিরিয়া এবং ইরান পর্যন্ত বিস্তৃত ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত ও ইসলামভীতির বেড়াজালে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই এক জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। নাইন-ইলেভেনের হামলার নেপথ্যে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার আগাম তথ্য থাকার চাঞ্চল্যকর দাবি এই ঘটনাকে নতুন মোড় দিয়েছে। মার্কিন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার টাকার কার্লসন ব্রিটিশ উপস্থাপক পিয়ার্স মরগানের ‘আনসেন্সরড নিউজ’ অনুষ্ঠানে একটি প্রামাণ্যচিত্র সিরিজের মাধ্যমে এই দাবিগুলো সামনে এনেছেন। কার্লসনের মতে, ইসরায়েলি নেতৃত্ব এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ক গভীর করার সুযোগ হিসেবে দেখেছিল। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামলার পরপরই একে ইতিবাচক হিসেবে আখ্যা দিয়ে পার্ল হারবারে জাপানি হামলার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
তদন্তের খাতিরে কার্লসন ‘ইসরায়েলি আর্ট স্টুডেন্টস’ ইস্যুটিও পুনরায় আলোচনায় এনেছেন। তার ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এই তথাকথিত শিল্পশিক্ষার্থীদের অনেকেই আসলে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এফবিআইয়ের নথি অনুযায়ী, তাদের কয়েকজনকে হামলার দৃশ্য ধারণ করতে দেখা গিয়েছিল এবং হামলার বিষয়ে তাদের পূর্বধারণা ছিল বলে প্রতীয়মান হয়। যদিও তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, কিন্তু কোনো অভিযোগ ছাড়াই পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মুসলিম ও আরব বংশোদ্ভূত নাগরিকদের ওপর চরম বৈরী পরিস্থিতি তৈরি হয়। সাউদার্ন পোভার্টি ল সেন্টারের ২০১১ সালের কংগ্রেসনাল সাক্ষ্য অনুযায়ী, মুসলিম পরিচয়ের কারণে বহু মানুষ শারীরিক আক্রমণ, হয়রানি ও বন্দুকের হুমকির মুখে পড়েছিলেন। মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর এই বৈষম্যের প্রতিবাদে বলেন, হামলার শিকার হওয়া কমিউনিটির অংশ হিসেবে মুসলিমরাও সেদিন আক্রান্ত হয়েছিলেন, কারণ বহু মুসলিম ফায়ার সার্ভিস কর্মীসহ অনেক নিরপরাধ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণাজনিত অপরাধ প্রায় ১৬১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। ২০০০ সালে এই ধরনের অপরাধের সংখ্যা ছিল মাত্র ২৮টি, যা ২০০১ সালে একলাফে ৪৮১টিতে পৌঁছায়। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের আরব আমেরিকান স্টাডিজ সেন্টারের পরিচালক স্যালি হাওয়েল জানান, সন্ত্রাস মোকাবিলার নামে নাগরিকদের ওপর নজরদারি ও হয়রানির যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা মুসলিমদের জন্য এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
২০১৬ সালের নির্বাচনী মৌসুমেও যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমবিরোধী মনোভাবের রেশ দেখা গিয়েছিল। এফবিআইয়ের পরিসংখ্যান বলছে, ২০০১ সালে ৪৮১টি ঘৃণাজনিত অপরাধের পর ২০০২ সালে তা কমে ১৫৫টিতে নেমে আসে। তবে পরবর্তীতে ২০১৫ সালে এই সংখ্যা বেড়ে ২৫৭ এবং ২০১৬ সালে ৩০৭-এ উন্নীত হয়। যদিও এরপর থেকে এই ধরনের অপরাধের হার ক্রমশ নিম্নমুখী। ট্রাম্পসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও গণমাধ্যম ভাষ্যকাররা সেই সময় মুসলিম ও আরব মার্কিনদের নিয়ে ভীতি ছড়িয়ে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নাইন-ইলেভেন-এর হামলা নিয়ে ইসরাইলি গোয়েন্দাদের আগাম জানাশোনার চাঞ্চল্যকর দাবি প্রমাণ করে, এ হামলার পেছনের প্রকৃত সত্য নিয়ে প্রশ্নের শেষ নেই, বরং তা সময়ে সময়ে নিচ্ছে নতুন মোড়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা ৯/১১ হামলা সংঘটিত হওয়ার আগেই এ সম্পর্কে জানত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইসরাইলের নেতৃত্ব কখনোই ৯/১১ হামলা নিয়ে তাদের মনোভাব লুকায়নি; বরং তাদের ধারণা ছিল, এ হামলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্ককে আরো গভীর করে তুলেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আফগানিস্তান থেকে ইরাক, লিবিয়া থেকে সিরিয়া, আর এখন ইরান পর্যন্ত বিস্তৃত এক দীর্ঘ যুদ্ধ ও ইসলামভীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই নিজের পাতা ফাঁদে আটকে পড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কার্লসন উল্লেখ করেন, হামলার পরপরই বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ক্যামেরার সামনে বলেছিলেন, ‘এ ঘটনা আসলে ভালো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র এমন এক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ইসরাইল কয়েক দশক ধরে অস্তিত্বের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি ৯/১১ হামলার সঙ্গে পার্ল হারবারে জাপানি হামলার তুলনাও করেছিলেন।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








