ইরানের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনা আজ সোমবার থেকে শুরু হবে। এ কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যে ‘বিশাল’ সামরিক হামলার পরিকল্পনা ছিল, সেটি তিনি স্থগিত করেছেন। রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যস্থতাকারীরা হামলার পরিসর বুঝতে পেরেছে, কারণ তারা দেখেছে সেটি কীভাবে প্রস্তুত হচ্ছে। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এগোচ্ছি। সোমবার বিকেল থেকে এই আলোচনা শুরু হবে। এর আগে বহুবার ট্রাম্প বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি খুব কাছাকাছি। কিন্তু প্রতিবারই পাল্টাপাল্টি হামলা আবার শুরু হয়েছে।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে দেয়া বক্তব্যে ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্নের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, দেখা যাক কী হয়। আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না। ট্রাম্প আরও বলেন, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার তাকে সপ্তাহান্তে সামরিক হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তারা হামলা না করার অনুরোধ করেছে কারণ তাদের বিশ্বাস একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক ইস্যুতে এই চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণার পর সোমবার এশিয়ার লেনদেনে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৪ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।
এদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি ট্রাম্পের দাবি অস্বীকার করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক হামলা স্থগিত রাখতে কোনো অনুরোধ করেনি। ট্রাম্পের দাবি নতুন আরেকটি মিথ্যা ছাড়া কিছুই নয়। রোববার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, ওমানের মধ্যস্থতায় হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত একটি চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে এগোচ্ছে। তবে সোমবারের আলোচনায় কোথায় বৈঠক হবে বা কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে কিছু জানাননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, পরিকল্পিত হামলাটি হলে সেটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সামরিক হামলা হতো এবং তা কয়েক মাস ধরে চলা যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দিতে পারত। ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার পরিকল্পনা ছিল কি নাÑ এ প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানান ট্রাম্প।
এর আগে ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেন, শত্রুপক্ষের যেকোনো হুমকিকেই তেহরান বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে, তা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হলেও। তিনি বলেন, আমরা কখনো অপ্রস্তুত অবস্থায় ধরা পড়ব না। আবার নিষ্ক্রিয়ও থাকব না। এর আগেও ট্রাম্প তেহরানের বিরুদ্ধে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দিয়েছেন। পরে আবার কূটনীতিকে সুযোগ দেয়ার কথা বলেছেন। শনিবার ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নজিরবিহীন সামরিক শক্তি ও ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে একই পোস্টে তিনি লিখেছেন, এই হামলা বাতিল করা হবে বিশ্বের ভবিষ্যৎ কল্যাণ এবং একটি সফল ও সমৃদ্ধ ইরানের টিকে থাকার স্বার্থে।
এর আগে ৭ই এপ্রিল ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি শান্তি আলোচনায় রাজি না হয়, তাহলে আজ রাতেই একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে। তখন তিনি বেসামরিক অবকাঠামো এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করারও হুমকি দেন। ওই হুমকির পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে পাকিস্তানে দুই পক্ষের মধ্যে ঐতিহাসিক মুখোমুখি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে সেই আলোচনা থেকেও কোনো সমঝোতা হয়নি। অন্যদিকে যুদ্ধ এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে মার্কিন জনগণের, এমনকি অনেক রিপাবলিকান সমর্থকের মধ্যেও যে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছেÑ এমন জরিপের ফলাফলকে ট্রাম্প প্রশাসন বরাবরের মতোই গুরুত্বহীন বলে দেখিয়েছে। যুদ্ধ মোকাবিলায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনঅসন্তোষের বিভিন্ন জরিপ আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান কৌশলবিদদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৯৮ ডলারে নেমে আসে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ৭৪ ডলারে দাঁড়ায়।
গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কায় জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামা করছে।
কারণ একটি চুক্তির ‘সীমারেখা’ ইতিমধ্যে নির্ধারিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সূত্র: মানবজমিন







