বেক্সিমকোর পর্ষদ থেকে সালমান এফ রহমান বাদ

প্রকাশ:

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো গ্রুপের কোম্পানি বেক্সিমকো লিমিটেড ও শাইনপুকুর সিরামিকসের পরিচালনা পর্ষদ থেকে সালমান এফ রহমানকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গত মঙ্গলবার কোম্পানি দুটির পর্ষদ নতুন করে গঠন করে। সালমান এফ রহমানের বাদ পড়ার এই সংবাদের পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানি দুটির শেয়ারের দামে উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। গত দুই দিনে উভয় কোম্পানির শেয়ারের দাম ১০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারের দাম বুধবার ৮০ পয়সা বা ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। বৃহস্পতিবার লেনদেন শুরুর প্রথম দুই ঘণ্টায় শেয়ারটির দর আরও ২ টাকা বা সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। সব মিলিয়ে গত দুই দিনে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম প্রায় ৩ টাকা বা ১৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই প্রবণতা দেখা গেছে শাইনপুকুর সিরামিকসের ক্ষেত্রেও। গত বুধবার শেয়ারটির দাম ৯০ পয়সা বা প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ বেড়েছিল। এরপর বৃহস্পতিবার লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টায় দর বেড়েছে আরও ২ টাকা ১০ পয়সা বা ১০ শতাংশ। ফলে গত দুই দিনে শাইনপুকুর সিরামিকসের প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে প্রায় ৩ টাকা বা ১৫ শতাংশের কাছাকাছি।

শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে কোম্পানি দুটি। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। এ সময়ের মধ্যে কোম্পানিটির প্রায় ২০ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ৭ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে শাইনপুকুর সিরামিকস লেনদেনের তালিকার সপ্তম অবস্থানে উঠে এসেছে। বাজার-সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সালমান এফ রহমানের অপসারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে, যা কোম্পানি দুটির শেয়ারের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়েছে।

এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর বেক্সিমকো গ্রুপের আরেক কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পর্ষদ থেকেও সালমান এফ রহমানকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো গ্রুপের তিনটি কোম্পানি থেকেই তিনি বাদ পড়লেন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এখন কারাগারে রয়েছেন। এর আগে গত বছরের জুলাই মাসে বিএসইসি তাকে শেয়ারবাজারে আজীবন অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বেক্সিমকো গ্রুপের ব্যবসায়িক প্রতিকূলতা এড়াতে এবং শেয়ারধারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সালমান এফ রহমান নিজেই পর্ষদ থেকে পদত্যাগে সম্মত হয়েছিলেন। যদিও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে পুনর্গঠিত নতুন পর্ষদে তার ঘনিষ্ঠরাই এখনো রয়ে গেছেন।

শেয়ার করুন