এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির নিয়মের অপব্যবহারের দায়ে মাইক্রোসফট, টাটা, ইনফোসিসসহ আটটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে হোয়াইট হাউস। বিদেশি দক্ষ কর্মীদের স্থায়ীভাবে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন ও চলমান সব ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত করা হয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স অভিযোগ করেছেন যে, এই আটটি কোম্পানি এইচ-১বি ভিসা পদ্ধতির অপব্যবহার করে মার্কিন কর্মীদের বঞ্চিত করছে। তিনি বিশেষভাবে মাইক্রোসফটকে দায়ী করে বলেন, অন্য কোনো কোম্পানি এই ব্যবস্থার এতটা অপব্যবহার করেনি। ভ্যান্সের ভাষ্যমতে, কোম্পানিটি মার্কিন নাগরিকদের বাদ দিয়ে বিদেশি চুক্তিবদ্ধ কর্মীদের প্রাধান্য দিচ্ছে এবং এর মাধ্যমে স্থানীয় কর্মীদের মজুরি কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানসমূহ
- মাইক্রোসফট
- অ্যাডোবি
- কগনিজ্যান্ট
- ইনফোসিস
- টাটা
- উইপ্রো
- এইচসিএল
- ক্যাপজেমিনি
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমমন্ত্রী কিথ সোন্ডারলিং নিশ্চিত করেছেন যে, পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন প্রোগ্রামের (পিইআরএম) আওতায় এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সব আবেদন আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। এই পিইআরএম ভিসা প্রক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের স্থায়ীভাবে নিয়োগের একটি অপরিহার্য ধাপ। প্রতি বছর দেশটিতে প্রায় ৮৫ হাজার এইচ-১বি ভিসা ইস্যু করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
ভাইস প্রেসিডেন্টের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাইক্রোসফট আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত অর্থবছরে তাদের করা এইচ-১বি ভিসার ৮০ শতাংশ আবেদনই ছিল আগে থেকে কর্মরত কর্মীদের জন্য, নতুন নিয়োগের জন্য নয়। এছাড়া মাইক্রোসফটের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কর্মীদের মধ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই মার্কিন নাগরিক।
বিতর্কের কারণ ও তথ্যের অসামঞ্জস্য
- গত অর্থবছরে মাইক্রোসফট প্রায় ৬ হাজার কর্মী ছাঁটাই করলেও একই সময়ে ৬ হাজার ৮০০টি এইচ-১বি ভিসার আবেদন করেছে।
- ভ্যান্সের মতে, এই তথ্যই প্রমাণ করে যে কোম্পানিটি স্থানীয় কর্মসংস্থান কমিয়ে বিদেশি কর্মী বাড়াতে আগ্রহী।
- এইচ-১বি ভিসার ১ লাখ ডলার আবেদন ফির নিয়মটি আদালত সম্প্রতি বাতিল করেছেন।
প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা এসব গুরুতর অভিযোগ এবং নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি খাতে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আটটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- এইচ–১বি ভিসা কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক কেন, এটির ভবিষ্যৎ কী।
সূত্র: প্রথম আলো








