আফগানিস্তানের বিপক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশ

প্রকাশ:

সংযুক্ত আরব আমিরাতে তীব্র তাপদাহ এবং আফগানিস্তানের ঘূর্ণি জাদুকে উপেক্ষা করে আজ বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায় টেস্টের লড়াইয়ে নামছে টাইগাররা। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, আবু ধাবিতে দিনের বেলা গড় তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলেও তা অনুভূত হবে ৪৪ থেকে ৪৫ ডিগ্রির মতো। এই প্রতিকূল পরিবেশে দীর্ঘ সময় মাঠে অবস্থান করা ক্রিকেটারদের জন্য বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে। যদিও আফগানদের জন্য এই আবহাওয়া অনেকটা পরিচিত, কিন্তু বাংলাদেশ দলের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, আজ দিনের বেলায় আবু ধাবির গড় তাপমাত্রা থাকবে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেখানে এই তাপমাত্রায় প্রতিদিন ৯-১০ ঘণ্টা মাঠের লড়াইয়ে থাকা নিঃসন্দেহে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ নিজ দেশে এমন তাপমাত্রায় দিনের বেলায় খেলে অভ্যস্ত আফগান ক্রিকেটাররা।

তবে দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এই গরমকে অযুহাত হিসেবে গ্রহণ করতে নারাজ। তার মতে, পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিকূল পরিস্থিতি মেনে নিয়েই তাদের মাঠে নামতে হবে এবং দল এ নিয়ে খুব একটা বিচলিত নয়। এছাড়া গত কয়েকদিনে দুবাইতে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাও কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে খেলোয়াড়দের সহায়তা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আমার মনে হয় যে খেলোয়াড়রাও এগুলো নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করছে না।

আফগানিস্তানের স্পিন আক্রমণ মোকাবিলা করা এই ম্যাচের অন্যতম মূল বিষয়। তারা তাদের দলে কায়েস আহমেদ ও খলিল গুরবাজের মতো দুই নতুন লেগ স্পিনারকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যারা টাইগারদের ব্যাটিং লাইনের জন্য ভয়ের কারণ হতে পারে। এছাড়া বাঁহাতি স্পিনার জিয়া-উর-রেহমানও থাকছেন স্কোয়াডে। তবে আফগানদের নিয়মিত অভিজ্ঞ বোলার রশিদ খান বা মুজিব-উর-রহমান এই সিরিজে না থাকায় কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য। তবে আফগানদের জন্য চ্যালেঞ্জটা যতটা না কঠিন, তার চেয়ে অনেকগুণ বড় চ্যালেঞ্জ এটা বাংলাদেশের জন্য।

উইকেট প্রসঙ্গে কোচ ফিল সিমন্স ও শান্তর পর্যবেক্ষণ হলো, পিচ কিছুটা ধীরগতির হতে পারে, তবে ব্যাটিংয়ের জন্য উপযুক্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্প্রতি তাওহীদ হৃদয়ের দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ৩৫২ রানের ইনিংস দলের ব্যাটিং শক্তির ওপর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। পাশাপাশি মুমিনুল হক, সাদমান ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দলের বড় শক্তি। তবে ওপেনার তানজিদ হাসানের সাম্প্রতিক রানখরা এবং এশিয়ান গেমসে লিটন দাসের ব্যর্থতা টিম ম্যানেজমেন্টের উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

শান্ত নিজেই অসুস্থতা কাটিয়ে খেলায় ফিরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, রিকোভারি ভালো হওয়ায় সুস্থ বোধ করছেন এবং গত দুইদিন অনুশীলনেও বেশ ভালো অনুভব করছেন। অন্যদিকে আফগানিস্তান দল তাদের অধিনায়ক পরিবর্তনের পর প্রথমবার মুখোমুখি হচ্ছে। দলের ব্যাটিং ভরসা রহমত শাহ, যিনি ১২ টেস্টে ৩ সেঞ্চুরি ও ৬ ফিফটি করেছেন। তাদের দলে সেদিকুল্লাহ অটল ও রহমানউল্লাহ গরবাজের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটাররাও থাকছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে ২২৪ রানে জেতার সুখস্মৃতি থাকলেও ২০২৩ সালেই তারা বাংলাদেশের কাছে ৫৪৬ রানে পরাজিত হয়েছিল। এবার নিরপেক্ষ ভেন্যুতে নতুন এক লড়াইয়ের অপেক্ষা। শান্ত জানান, গত দুই বছর ধরে টেস্ট ফরম্যাটে বাংলাদেশ দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলছে। যদিও উন্নতির অনেক জায়গা এখনো রয়েছে, তবে ডারউইনের আত্মবিশ্বাস ও প্রস্তুতি নিয়ে তারা এই ম্যাচে জয়ী হতে বদ্ধপরিকর। রোমাঞ্চকর এক সিরিজের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে শান্ত বলেন, দীর্ঘ সময় পর টেস্ট খেলতে নামায় খেলোয়াড়রা বেশ উজ্জীবিত এবং ভালো ক্রিকেট উপহার দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। যেকোনো সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে লম্বা সময় ধরে এমন তাপদাহ সহ্য করা বেশ কঠিন।

শেয়ার করুন