শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় চিরনিদ্রায় বিএনপি নেতা আ. হাই

প্রকাশ:

দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অকৃত্রিম শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাবেক উপমন্ত্রী এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আ. হাই। গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর এলাকার মিরেশ্বরাই সামাজিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদকে শেষবিদায় জানাতে সর্বস্তরের মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। দাফন শেষে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। হাইয়ের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রয়াত এই প্রবীণ নেতার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এবং মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য। পরবর্তীতে বাদ মাগরিব মুন্সীগঞ্জ জেলা শহরের বিএনপি কার্যালয়ের সামনে তাঁর দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজায় জেলা জুড়ে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং সর্বস্তরের হাজার হাজার শোকার্ত মানুষ এতে অংশ নেন।

দ্বিতীয় জানাজায় উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ও মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ও মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহ, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. নাছির উদ্দিন ও কেন্দ্রীয় নেতা সাজু কামালসহ সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ। জানাজা শুরু হওয়ার পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার আমির আজম রুহুল কুদ্দুস, সেক্রেটারি ফখরুদ্দিন রাজী এবং গণ অধিকার পরিষদের মহাসচিব মনসুর আহমেদ। এ সময় মরহুমের ছোট ভাই ও জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মো. মহিউদ্দিন এবং বড় ছেলে ইফতেখারুল আলম রিপন পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া চান। জানাজায় ইমামতি করেন হেফাজতে ইসলামীর সহসভাপতি মাওলানা নূর হোসেন নূরানী।

মুন্সীগঞ্জ-৩ আসন থেকে পাঁচবার নির্বাচিত এই সংসদ সদস্যের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীসহ স্থানীয় তিনটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যগণ, মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাব, সরকারি হরগঙ্গা কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এবং জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগে গত বুধবার দিবাগত রাত ১টায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন ৭৭ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য অনুরাগী রেখে গেছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন।

শেয়ার করুন