সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, গাজায় চলমান ধ্বংসযজ্ঞ ও রক্তপাতের দৃশ্য যেকোনো মানুষের মনকে ব্যথিত করার মতো। উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিগ্রি গ্রহণের অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত সাংবাদিক সুসান ম্যাককের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে এই মন্তব্য করেন। ওবামা স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, বছরের পর বছর ধরে জমতে থাকা গভীর ক্ষোভ থেকেই আজকের এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে।
সামরিক শক্তির দাপট ও নৈতিক অবস্থানের সংকট
ইসরাইলকে সতর্কবার্তা দিয়ে ওবামা বলেন, সামরিক শক্তির দাপট দেখিয়ে কখনোই স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ বা সামরিক সক্ষমতাই শেষ কথা নয়। ওবামার ভাষায়, ইসরাইল সরকারের ‘আমরা শক্তিশালী, তাই যা খুশি করতে পারি, কাউকে ছাড় দেব না’—এই ধরণের চিন্তাভাবনা সাময়িকভাবে হয়তো সুবিধা দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি তাদের নৈতিক অবস্থানকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনিদের ভিটেমাটি কেড়ে নেওয়ার ফলে ইসরাইল তার নিজস্ব নৈতিক ভিত্তি হারিয়ে ফেলেছে। আইনজীবী দাবি করলেও বার পরীক্ষায় পাস করেননি ট্রাম্পের প্রেস সচিব। প্রস্রাবভর্তি বোতলে ভরা বাড়ি, পরিবারের ৮ জনকে হত্যা করলেন বাবা। যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুক হামলায় প্রাণ গেল ৪ জনের, পথচারীর গুলিতে নিহত হামলাকারী। নিষেধাজ্ঞার পরও মিয়ানমারের সঙ্গে গোপন আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র। ইরানে ‘মাদার অব অল বম্বস’ ব্যবহারের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্ত, শিশুসহ নিহত ৬।
দখলদারিত্ব ও বাস্তবের মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান
- ওবামা মন্তব্য করেন যে, ইসরাইল সাধারণ মানুষের জমি দখল করেছে এবং শক্তির অপব্যবহার করছে, যার ফলে হারানো জমি পুনরুদ্ধারের জন্য ফিলিস্তিনিদের লড়াই করাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক।
- ইউরোপে ইহুদিদের নিপীড়নের ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিজেদের জমি হারিয়ে ফিলিস্তিনিরাও কম অন্যায়ের শিকার হয়নি।
- বর্তমান ইসরাইলি সরকারকে বাস্তবমুখী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, প্রায় ৭০ লাখ ফিলিস্তিনি এই ভূখণ্ড ছেড়ে কোথাও যাবে না।
- নিজেদের জন্য যা অগ্রহণযোগ্য, তা ফিলিস্তিনিদের ওপর জোর করে চাপিয়ে দিয়ে কখনোই অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় বলে ওবামা অভিমত ব্যক্ত করেন।
ওবামার এই বক্তব্য গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি সংঘাতের মূল কারণ হিসেবে ইসরাইলি দখলদারিত্ব ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার লঙ্ঘনকে চিহ্নিত করেন। সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ হতে হবে ন্যায়সংগত ও বাস্তবসম্মত। প্রযুক্তির চেয়ে মানবিকতাকে এবং শক্তির চেয়ে সংহতিকে প্রাধান্য না দিলে ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংকট নিরসন হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। ওবামার এই অবস্থানকে ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও সংহতির পক্ষে একটি জোরালো বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আবারও দিল্লি পুলিশের হাতে আটক অভিজিৎ দিপকে। সৌদিগামী ১০৭ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ১৬ হাজার যাত্রী। টেসলার উড়ন্ত গাড়ি, রূপকথা যেন বাস্তব।
সূত্র: Probash Khabor








