কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীর পাটুয়ারটেকে অবস্থিত ‘টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্ট’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট রিসোর্টের মালিক তানভীর আহমদ, নিয়াজ মোর্শেদ এবং ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ শনিবার সন্ধ্যায় রিসোর্টের রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে গ্রেপ্তার করে এবং পরে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার প্রধান আসামি হিসেবে চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার বাসিন্দা রিসোর্ট মালিক তানভীর আহমদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশ এখনও রিসোর্টের অন্য দুই মালিক নিয়াজ মোর্শেদ ও তানভীর আহমদের অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি। এছাড়া মামলার মোট আসামির সংখ্যা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনও জানানো হয়নি। তবে মামলায় মোট কতজনকে আসামি করা হয়েছে এবং তাদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে তিনি রাজি হননি।
অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত এবং তা পরিবারের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, পরিচয় শনাক্তে বিভ্রান্তি এড়াতে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত মরদেহগুলো জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করা হবে। পরীক্ষা শেষে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে। উদ্ধার হওয়া লাশ, নিখোঁজ ব্যক্তি ও পরিচয় শনাক্তের বিষয়টি নিয়ে যেন কোনো বিভ্রান্তি না থাকে, সে জন্য ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।
এ বিষয়ে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের কার্যক্রম গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালেই নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে ঢাকা থেকে সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল এনে এখানেই ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত এবং ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমেই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়বদ্ধতা নিরূপণ করা সম্ভব হবে।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








