জাহান্নামের ভয়াবহ আগুন থেকে সুরক্ষা পেতে অনেক বড় কোনো আমলের প্রয়োজন নেই; বরং মানুষের সামর্থ্য অনুযায়ী সামান্য দান বা সদকাও হতে পারে মুক্তির উসিলা। ইসলামে সদকাকে অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদায় স্থান দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে দানের ফজিলত ও গুরুত্ব অনুধাবন করা এবং তা জীবনে প্রয়োগ করার ওপর বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, সামান্য দানকেও অবহেলা করা উচিত নয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) দান-সদকার গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে বলেছেন, তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো, যদিও অর্ধেক খেজুর দান করার মাধ্যমে হয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৪১৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০১৬)। এই হাদিস থেকে স্পষ্ট হয়, দানের ক্ষেত্রে পরিমাণের চেয়েও নিয়তের আন্তরিকতা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
অনেকেই সম্পদ কম থাকায় দান করার সুযোগ থেকে নিজেকে বঞ্চিত মনে করেন, যা ইসলামের শিক্ষা নয়। বরং ইসলাম সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষকে দান করতে উৎসাহিত করে। ক্ষুধার্তকে খাবার দেওয়া, অভাবীকে সাহায্য করা কিংবা বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোও ইসলামের দৃষ্টিতে বড় কল্যাণকর কাজ। একজন মানুষ অল্প অর্থ দিয়ে ক্ষুধার্তকে খাবার দিতে পারেন, অভাবীকে সাহায্য করতে পারেন কিংবা বিপদে পড়া কারও পাশে দাঁড়াতে পারেন। মসজিদ ধ্বংস করতে এসে মার্কিন সেনার ইসলাম গ্রহণ।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ ইরশাদ করেন, তোমরা যা কিছু ব্যয় করো, তিনি তার প্রতিদান দেবেন। (সুরা সাবা, আয়াত: ৩৯)। তবে দানের ক্ষেত্রে অর্থের পাশাপাশি সম্পদ হালাল হওয়া এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্য থাকা অপরিহার্য। লোকদেখানো মনোভাব থেকে মুক্ত থেকে গোপনে দান করাকে ইসলামে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আন্তরিকভাবে করা ছোট দানও সওয়াবের কারণ হতে পারে।
সুরা আল-বাকারার ২৭১ নম্বর আয়াতে উল্লেখ আছে, অভাবীদের দান প্রকাশ্যে করা ভালো; আর তা গোপনে করে তাদের দেওয়া আরও উত্তম। কিয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের ছায়া লাভকারী সাত শ্রেণির মানুষের মধ্যে এমন ব্যক্তিও থাকবেন, যিনি এত গোপনে সদকা করেন যে তাঁর বাম হাত জানতে পারে না ডান হাত কী ব্যয় করেছে।
সদকার পরিধি কেবল অর্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অসহায়কে সহায়তা, রাস্তা থেকে ক্ষতিকর বস্তু সরানো বা মানুষের সাথে সদাচরণ করাও সওয়াবের কাজ। তবে প্রতিটি আমলের নিজস্ব ফজিলত রয়েছে। দান করতে গিয়ে পরিবারের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ণ করা কিংবা মানুষের পাওনা আটকে রাখা উচিত নয়।
ইসলামের অন্যান্য বিধানের পাশাপাশি দান, ফরজ ইবাদত ও তওবার মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
সম্প্রতি ধর্মীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে এক বছরেই তিন ঈদ ও দুই হজের বিরল ঘটনা, যা মুসলিম বিশ্ব প্রত্যক্ষ করবে। এছাড়া ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছে। এক বছরেই ৩ ঈদ আর ২ হজ, বিরল নজির দেখবে মুসলিম বিশ্ব। ২০২৭ সালের হজে অংশ নিতে পারবেন না যারা।
পাশাপাশি হজের নিয়মাবলি, মসজিদে প্রবেশের ঘটনা, মুয়াজ্জিনের ইন্তেকাল, জুমার দিনের বিশেষ আমল এবং প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও সামাজিক নানান ঘটনার সংবাদও আলোচনায় রয়েছে। এসব বিষয়ের পাশাপাশি আল্লাহর পথে অকৃপণভাবে দান করে আত্মশুদ্ধি ও পরকালীন মুক্তির পথ সুগম করাই মুমিনের লক্ষ্য হওয়া উচিত। মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন শেখ ইব্রাহিম আল মাদানির ইন্তেকাল।
সূত্র: Probash Khabor








