স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪

প্রকাশ:

স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের দক্ষিণাঞ্চলে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে বর্তমানে ৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা এখনো দুর্ঘটনাস্থলে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, ফলে প্রাণহানির এই সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্পেনে দ্রুতগতির দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬।

স্থানীয় সময় গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৯টার কিছুক্ষণ পর তোলেদো প্রদেশের মোরো ও অর্গাজ এলাকার মাঝামাঝি স্থানে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের সরকারপ্রধান এমিলিয়ানো গার্সিয়া-পেজে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রাথমিক তথ্যে নিহতের সংখ্যা ৩১ বলা হলেও বর্তমানে তা ৬৪-তে ঠেকেছে। কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের সরকারপ্রধান এমিলিয়ানো গার্সিয়া-পেজে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, “এ পর্যন্ত প্রায় ৬৪ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, তবে সংখ্যাটি আরও বাড়তে পারে।“ এর আগে প্রাথমিকভাবে ৩১ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছিল। মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের ৩১ অক্টোবর থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু।

দুর্ঘটনার শিকার ট্রেন দুটির বিষয়ে জানিয়েছে স্পেনের প্রধান রেল পরিচালনা সংস্থা আদিফ। তারা জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা রেনফের একটি ট্রেন এবং বেসরকারি পরিবহন প্রতিষ্ঠান ইরিওর একটি ট্রেনের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়েছে। ইরিওর ট্রেনটি মাদ্রিদ থেকে সেভিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল।

আঞ্চলিক সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার মুহূর্তে ট্রেন দুটিতে সর্বমোট ৫৪৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী এবং একটি শিশু ভ্রমণ করছিল। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ছিল যে উদ্ধারকাজ পরিচালনায় বেগ পেতে হচ্ছে জরুরি বাহিনীকে। আঞ্চলিক সরকারের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় দুই ট্রেনে মোট ৫৪৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ও একজন শিশু ছিল।

দুর্ঘটনার পরপরই নিরাপত্তার খাতিরে ওই রুটের সব ট্রেন নিকটস্থ স্টেশনগুলোতে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং রেল যোগাযোগ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এই ভয়াবহ সংঘর্ষ কীভাবে ঘটল, সে বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে দুটি দ্রুতগতির ট্রেন কেন একই লাইনে মুখোমুখি হলো, তার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।

উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে কর্তৃপক্ষ নিবিড়ভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছে।

শেয়ার করুন