স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সিলেটের ওসমানীনগরের তাজপুর ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। যুগের পর যুগ ধরে কাঁচা ও বেহাল সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে স্থানীয় হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি কর্দমাক্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এই দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে এলাকাবাসী শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) হুমায়ুন কবিরের শরণাপন্ন হয়েছেন। গত ১ জুলাই নাসের বখত, ওলিউর রহমান ও মাওলানা নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সড়কটি দ্রুত পাকাকরণের জন্য লিখিত আবেদন জানান। আবেদনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) রাস্তার আইডি নম্বর ৬৯১০৮৫৩২৩ উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা গেছে, তাজপুর ইউনিয়নের পশ্চিম কাশিকাপন গউছুল আলমের বাড়ির সামনে রাঙিয়া-দুরাজপুর সড়ক থেকে শুরু হয়ে গোয়াশপুর-কাশিকাপন সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত এই রাস্তাটি ওই তিন গ্রামের মানুষের যাতায়াতের প্রধান পথ। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী এবং চাকরিজীবীরা চলাচল করেন। শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালি আর বর্ষায় কাদা-পানিতে একাকার হয়ে থাকা এই সড়কটি যেন উন্নয়নের মূল স্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন এক জনপদের চিত্র তুলে ধরে।
সড়কটির বেহাল দশার কারণে অসুস্থ রোগী, গর্ভবতী নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের নিয়ে যাতায়াত করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন কাদা মাড়িয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। প্রতিনিধিদলের সদস্য মাওলানা নাজমুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পার হওয়ার পরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কাঁচা থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আবেদনটি গ্রহণ করে সড়কটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন, যা এলাকাবাসীর মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।
প্রতিনিধিদলের থাকা মাওলানা নাজমুল ইসলাম জানান, স্বাধীনতার ৫ দশকে গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক কাঁচা থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক।
কোথাও কোথাও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে।
ফলে অল্প দূরত্বের পথ পাড়ি দিতেও মানুষকে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন অসুস্থ রোগী, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীরা।
সূত্র: Daily Amar Desh








