সৌদি আরবের মরুভূমিতে দীর্ঘ এক শতাব্দী পর বিলুপ্তপ্রায় ‘অনাগার’ প্রজাতির শাবকের জন্ম হয়েছে। প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান রয়্যাল রিজার্ভের ‘রিওয়াইল্ড অ্যারাবিয়া’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৫ সালের জুন মাসে এই পুরুষ শাবকটির জন্ম হয়। শাবকটির জীবনের প্রথম ১২ মাস অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এবং এই প্রজাতির শাবকদের প্রথম বছরে বেঁচে থাকার হার মাত্র ৫০ শতাংশ হওয়ায়, কর্তৃপক্ষ এতদিন বিষয়টি গোপন রেখেছিল। এক বছর সফলভাবে বেঁচে থাকার পর এখন এই ঐতিহাসিক সাফল্যের খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। বর্তমানে রিজার্ভের আরও দুটি অনাগার গর্ভবতী রয়েছে, যারা আগামী শীতে শাবকের জন্ম দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের এপ্রিলে জর্ডানের শওমারি রিজার্ভ থেকে ৯৩৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পাঁচটি স্ত্রী ও দুটি পুরুষ অনাগার সৌদিতে আনা হয়েছিল। ঘণ্টায় ৬৪ থেকে ৭০ কিলোমিটার গতিতে দৌড়াতে সক্ষম এই প্রাণীটি প্রাচীন আরবের সংস্কৃতিতে গতি ও স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে সমাদৃত ছিল এবং ৮০টিরও বেশি কবিতায় এর উল্লেখ পাওয়া যায়।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৬০০টিরও কম পারস্য অনাগার টিকে আছে। আইইউসিএন ২০২৫ সালে এই প্রাণীকে ‘চরম বিপন্ন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে এবং সতর্ক করেছে যে, কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ২০৫০ সালের মধ্যে এদের সংখ্যা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে।
রিজার্ভের সিইও অ্যান্ড্রু জালুমিস জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্যভিত্তিক ২৩টি প্রজাতির মধ্যে ১৪টি ইতোমধ্যে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং ৬টি প্রজাতি সফলভাবে বংশবৃদ্ধি করেছে। আগামী ২৫ বছরের মধ্যে চিতাবাঘ, চিতা ও সিংহের মতো শিকারি প্রাণী ফিরিয়ে এনে মরুভূমির বাস্তুতন্ত্রকে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনাই সৌদি আরবের মূল লক্ষ্য।
সূত্র: গালফ বাংলা








