ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে দাপট দেখাল বাংলাদেশ। লাঞ্চ বিরতি পর্যন্ত সফরকারীদের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১৮১ রান। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের লক্ষ্য এখন মাত্র ১৭ রান দূরে। প্রথম দিন শেষে মুমিনুল হক ও তানজিদ হাসান তামিম ৬০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি নিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক তিন পেসার থাকা সত্ত্বেও নতুন বলে আক্রমণে আনেন বো ওয়েবস্টারকে। তবে মুমিনুল ও তানজিদ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কামিন্স ও স্টার্কের গতি ও বাউন্স সামলে নিজেদের জুটি বড় করতে থাকেন।
এই সেশনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল তানজিদ হাসানের প্রথম টেস্ট ফিফটি। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টে বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে এই অর্ধশতক তার জন্য এক বড় অর্জন। ফিফটির পর তানজিদ আরও সাবলীল হয়ে ওঠেন এবং ওয়েবস্টারের বলে লং অফের ওপর দিয়ে ইনিংসের প্রথম ছক্কাটি হাঁকান। মুমিনুল ও তানজিদের জুটি ১০২ রান অতিক্রম করে, যা অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড স্পর্শ করে। এর আগে ২০০৩ সালে কেয়ার্নসে হাবিবুল বাশার ও হান্নান সরকার ১০৮ রানের জুটি গড়েছিলেন।
তবে সেঞ্চুরির পথে থাকা মুমিনুল হক ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ৯৫ বলে ৪৯ রান করা অবস্থায় জশ হ্যাজলউডের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট চালিয়ে অ্যালেক্স ক্যারির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ভাঙে ১০২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ক্রিজে এসে তানজিদের সঙ্গে জুটি গড়েন। তানজিদ ৬২ রানে থাকা অবস্থায় নাথান লায়নের বলে স্লিপে স্টিভেন স্মিথের ক্যাচ মিসের সুযোগটি কাজে লাগিয়ে নিজের ইনিংস আরও দীর্ঘ করেন। লাঞ্চ পর্যন্ত ১৪৪ বলে ৭৪ রানে অপরাজিত আছেন তানজিদ, যার মধ্যে রয়েছে ৬টি চার ও ১টি ছক্কা। অন্যদিকে, ৪০ বলে ৩টি চারের সাহায্যে ২৮ রানে অপরাজিত আছেন শান্ত। শেষ ১০ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৩৭ রান তুলে বাংলাদেশ এখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে।
লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার সময় সফরকারীদের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১৮১, অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে পিছিয়ে মাত্র ১৭ রানে।
প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয়েছিল ১৯৮ রানে, আর সেই লক্ষ্য এখন হাতের নাগালে।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, নাথান লায়নের বলে ৬২ রানে থাকা অবস্থায় স্লিপে তানজিদের একটি ক্যাচ ফেলেন স্টিভেন স্মিথ, যা কাজে লাগিয়ে ইনিংস আরও লম্বা করেন তরুণ ওপেনার।
সূত্র: মানবজমিন








