জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও উন্নয়নের মূলনীতি

প্রকাশ:

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় থেকে সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তরগুলো পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য সহায়তা করবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হলো জনগণ। এই শাসনব্যবস্থায় সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক সাধারণ নাগরিকরাই। জনগণের ভোটের মাধ্যমেই সরকার গঠিত হয়, আবার প্রয়োজনবোধে তারা ভোটের অধিকার প্রয়োগ করে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব থেকে কাউকে সরিয়ে দিতে পারে। একারণেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণকে সব ক্ষমতার চূড়ান্ত উৎস হিসেবে অভিহিত করা হয়।

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল লক্ষ্য হলো জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন। কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো এবং বেকারত্ব দূর করা সম্ভব। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি এই উৎপাদনশীলতা বজায় থাকলে দেশ দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে অদক্ষ জনসংখ্যাকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনসম্পদে রূপান্তর করা অত্যন্ত জরুরি। মানুষ যখন কোনো কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে, তখনই তারা রাষ্ট্র ও সমাজের প্রকৃত শক্তিতে পরিণত হয়।

শিল্প খাতের অবদান জাতীয় অর্থনীতিতে সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। ২০১২-১৩ অর্থবছরে দেশের মোট জাতীয় উৎপাদনে শিল্প খাতের অবদান ছিল ১৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ। বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সরবরাহ, খনিজ সম্পদ আহরণ এবং নির্মাণ শিল্পের মতো খাতগুলোকে এর অন্তর্ভুক্ত করলে সামগ্রিক অবদান আরও বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, রেমিট্যান্সের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রবাসে কর্মরত শ্রমিক, পেশাজীবী ও কর্মচারীরা কষ্টার্জিত অর্থের একটি অংশ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে তাদের পরিবারের কাছে পাঠান, যা রেমিট্যান্স হিসেবে পরিচিত এবং জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে।

ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণায় রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক নিজ নিজ ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী বাধা ও হস্তক্ষেপহীন উপায়ে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা পান। এটি আমাদের সংবিধানের অন্যতম একটি মূলনীতি। শিক্ষার্থীদের এই বিষয়গুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করা প্রয়োজন। ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক মিজানুর রহমান এসব শিক্ষামূলক তথ্যাবলি শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির সুবিধার জন্য সহজভাবে তুলে ধরেছেন।

শেয়ার করুন