টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের ধুপুরিয়া গ্রামে মর্মান্তিক এক ঘটনায় মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন ২৮ বছর বয়সী কণিকা বেগম এবং তাঁর চার বছরের কন্যাশিশু রাজিয়া আক্তার। কণিকা ওই গ্রামের নির্মাণশ্রমিক রাজীব হোসেনের স্ত্রী ছিলেন। প্রায় ছয় বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয় এবং কণিকার বাবার বাড়ি ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার ঝুরঝুরিয়া গ্রামে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই সংসারে আর্থিক টানাপোড়েন নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই মতবিরোধ ও ঝগড়া হতো। গত বৃহস্পতিবার রাতে পারিবারিক কলহের জেরে রাজীব কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান এবং রাতে আর ফেরেননি। পরদিন শুক্রবার সকালে কণিকা মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। তবে পথে রাজীবের বাবা নাজিম মিয়া তাঁকে ফিরিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
বাড়িতে ফেরার পর কণিকা মেয়েকে নিয়ে নিজেদের ঘরে দরজা আটকে দেন। দীর্ঘ সময় কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতর উঁকি দিয়ে আড়ার সঙ্গে কণিকার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। একই সময় মেঝেতে শিশু রাজিয়ার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। খবর পেয়ে মির্জাপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আদনান মোস্তাফিজ এবং মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে কণিকা বেগম তাঁর মেয়েকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছেন। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওই নারীর নাম কণিকা বেগম (২৮)।
তিনি মির্জাপুরের আনাইতারা ইউনিয়নের ধুপুরিয়া গ্রামের নির্মাণশ্রমিক রাজীব হোসেনের (৩০) স্ত্রী।
তাঁদের একমাত্র মেয়ে রাজিয়া আক্তার (৪)।
সূত্র: প্রথম আলো








