ট্রাম্পের এআই সম্মেলনে নতুন ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ চুক্তিতে বড় উদ্যোগ

প্রকাশ:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দেশের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে এক বিশেষ বৈঠক করেছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের এই অসাধারণ সম্মেলনটিকে তিনি ‘আমেরিকার স্বর্ণযুগ’ তৈরির অংশ হিসেবে অভিহিত করেন। এআই প্রযুক্তির ওপর কঠোর নজরদারি এবং এর উন্নয়ন ধীর করার জন্য বিশেষজ্ঞ ও নির্বাহীদের সাম্প্রতিক উদ্বেগের মধ্যেই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো। সম্মেলনে ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক, এনভিডিয়া, মেটা ও গুগলের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল এআই ‘স্বনিয়ন্ত্রণ’ চুক্তি, ডাটা সেন্টার নির্মাণ ও সুপার ইন্টেলিজেন্সের ভবিষ্যৎ রূপরেখা। এ সময় তিনি তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা সবাই যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ডাটা সেন্টার নির্মাণ ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য একটি সম্ভাব্য রাজনৈতিক বাধা হিসেবেও দেখা দিয়েছে।

বৈঠক শেষে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ডনাল্ড ট্রাম্প। এসময় প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন তার সঙ্গে ছিলেন। প্রেসিডেন্ট জানান, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর নির্বাহীরা একটি ‘নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক’ নথিতে স্বাক্ষর করেছেন, যা এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে সুরক্ষার একটি কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প চুক্তিটি প্রকাশ করে জানান, এআই প্রযুক্তির নিরাপত্তার দায়িত্ব কোম্পানিগুলোর নিজেদেরই নিতে হবে।

চুক্তিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন গুগলের সুন্দর পিচাই, অ্যানথ্রপিকের দারিও আমোদেই, মেটার মার্ক জাকারবার্গ, ওপেনএআইয়ের গ্রেগ ব্রকম্যান, স্পেসএক্সের ইলন মাস্ক এবং এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং। চুক্তিটিকে ট্রাম্প অনেকটা ‘সংবিধানের মতো’ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেন। এই নথিতে প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে এবং এআই মডেলের ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত করে তা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। নথিতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলো এমন নিরাপত্তাব্যবস্থা বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে, যাতে তাদের এআই মডেলগুলো যেভাবে কাজ করার কথা সেভাবেই কাজ করে। পাশাপাশি কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত শনাক্ত ও সমাধান করতে হবে।

ট্রাম্পের এই পরিকল্পনায় ডাটা সেন্টার সম্প্রসারণের বিষয়টি বেশ গুরুত্ব পেয়েছে, যা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক রয়েছে। বিপুল বিদ্যুৎ খরচ ও স্থানীয় জনপদের ওপর প্রভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এনপিআর ও পিবিএস নিউজের সঙ্গে মারিস্ট পোলের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, ৬৫ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার নিজেদের এলাকায় ডাটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধিতা করছেন। ট্রাম্প অবশ্য আশ্বস্ত করেছেন যে, ডাটা সেন্টার নির্মাণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে ‘সন্তুষ্ট’ করার সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে। চলতি মাসের শুরুতে এনপিআর ও পিবিএস নিউজের সঙ্গে মারিস্ট পোলের করা এক জরিপে দেখা গেছে, নিবন্ধিত ভোটারদের ৬৫ শতাংশই নিজেদের এলাকায় ডাটা সেন্টার নির্মাণের বিরোধিতা করেন।

বৈঠকের দিনই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি বিশেষ নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এর মাধ্যমে মার্কিন সরকারের সব দপ্তরে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটির পরিবর্তে ‘এসআই’ বা ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ পরিভাষাটি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি নথিপত্র, ওয়েবসাইট ও নীতিগত নথিতে এখন থেকে এই নতুন শব্দ ব্যবহৃত হবে। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রযুক্তির এই অবিশ্বাস্য সক্ষমতা কেবল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নয়, বরং এটি সুপার ইন্টেলিজেন্সের এক নতুন যুগের প্রতিনিধিত্ব করছে।

শেয়ার করুন