ডায়াবেটিস রোগীদের নিউমোনিয়ার ঝুঁকি কেন বেশি?

প্রকাশ:

ফুসফুসের মারাত্মক সংক্রমণ নিউমোনিয়া সাধারণত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা অন্য কোনো অণুজীবের মাধ্যমে ছড়ায়। যদিও যেকোনো মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারেন, তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই রোগটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদী ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি জটিলতা কিংবা হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি থাকে। রক্তে শর্করার মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে শ্বেতরক্তকণিকার কার্যকারিতা কমে যায় এবং শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে সাধারণ শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণও দ্রুত জটিল নিউমোনিয়ায় রূপ নিতে পারে।

ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া কেবল ফুসফুসের সমস্যা নয়, বরং এটি রক্তে শর্করার মাত্রাকেও প্রভাবিত করে। নিউমোনিয়ার প্রভাবে রোগীর শর্করা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে, যা শরীরে পানিশূন্যতা বা কিটো-অ্যাসিডোসিসের মতো বিপজ্জনক জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

নিউমোনিয়ার সাধারণ উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে কাঁপুনির সঙ্গে জ্বর, কফসহ বা শুকনো কাশি, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা দ্রুত শ্বাস নেওয়া, এবং শ্বাস নেওয়ার সময় বুকে ব্যথা। এছাড়া রোগী অতিরিক্ত অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারেন, ক্ষুধামান্দ্য দেখা দিতে পারে অথবা অস্বাভাবিক আচরণ করতে পারেন। বিশেষ করে ঠোঁট বা মুখ নীলচে হওয়া, তীব্র বুকব্যথা, বারবার বমি, অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব বা বিভ্রান্তি এবং রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিক ওঠানামা করার মতো লক্ষণ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রয়োজন।

নিউমোনিয়ার চিকিৎসা নির্ভর করে রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং সংক্রমণের কারণের ওপর। ভাইরাসজনিত নিউমোনিয়ায় অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে কোনো ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডায়াবেটিসের নিয়মিত ওষুধ বা ইনসুলিনের মাত্রা পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। অসুস্থ অবস্থায় নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ বন্ধ করা যাবে না।

রোগ প্রতিরোধ বাড়াতে নিয়মিত পুষ্টিকর ও সুষম খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত তরল পান এবং বিশ্রাম অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া ধূমপান ফুসফুসের ক্ষমতা কমিয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়, তাই এটি বর্জন করা উচিত। সংক্রমণের বিস্তার রোধে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি, চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোকক্কাল টিকা নেওয়া ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

এই বিষয়ে বিস্তারিত পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করা যেতে পারে ডা. মো. তালহা চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি ফ্যামিলি মেডিসিন বিষয়ে কনসালট্যান্ট হিসেবে আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর ১০, ঢাকা শাখায় রোগী দেখেন। নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা এবং সুশৃঙ্খল জীবনযাপনই এই ঝুঁকি মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বয়স্ক ব্যক্তি, দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস, কিডনি বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং যাঁদের রক্তে শর্করার মাত্রা ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে নেই, তাঁদের ঝুঁকি বেশি।

শেয়ার করুন