তরুণ বয়সে স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে যেসব অভ্যেস

প্রকাশ:

স্মৃতি ধরে রাখা আমাদের দৈনন্দিন অস্তিত্বের অংশ। অথচ তরুণ বয়সেই ভুল জীবনচর্চার কারণে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ইসরাত জেরিন আলমের পরামর্শ অনুযায়ী, কিছু ক্ষতিকর অভ্যাস আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।

ঘুমের অনিয়ম

  • একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা গভীর ঘুম প্রয়োজন। ঘুমের অভাবে মস্তিষ্কে বিটা অ্যামাইলয়েড ও টাউ প্রোটিনের মতো ক্ষতিকর উপাদান জমা হয়।
  • রাত জেগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, অনিদ্রা বা নাক ডাকার মতো সমস্যায় শ্বাসের ব্যাঘাত স্মৃতিশক্তি ও নতুন কিছু শেখার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।
  • ঘুমের ওষুধের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাও স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টি

  • লাল মাংস, প্রক্রিয়াজাত চর্বি, মার্জারিন, ফাস্ট ফুড ও ভাজাপোড়া খাবার স্মৃতিশক্তির জন্য ক্ষতিকর।
  • শাকসবজি, ফলমূল, গোটা শস্য যেমন লাল চাল ও লাল আটা, এবং বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার নিয়মিত তালিকায় রাখা জরুরি।

মানসিক যত্ন ও সামাজিকতা

মানসিক বিষণ্নতা বা হতাশা মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সৃজনশীল কাজ, বই পড়া, শখের রান্না কিংবা সাংস্কৃতিক চর্চায় নিজেকে ব্যস্ত রাখা উচিত। এছাড়া পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং সমমনা মানুষের সান্নিধ্য মস্তিষ্কের সজীবতা বজায় রাখে। একাকীত্ব থেকেও স্মৃতিভ্রমের সমস্যা হতে পারে।

জীবনচর্চায় সতর্কতা

  • শরীরচর্চার অভাব: নিয়মিত শারীরিক কসরত শরীর ও মনকে সচল রেখে ভাসকুলার ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমায়।
  • শব্দদূষণ: উচ্চ শব্দে গান শোনা বা অতিরিক্ত শব্দদূষণে শ্রবণশক্তি কমে, যা পরোক্ষভাবে স্মৃতিভ্রমের কারণ হতে পারে।
  • নেশা ও আঘাত: ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান পরিহার করা জরুরি। এছাড়া মোটরসাইকেল চালানোর সময় মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করলে দুর্ঘটনায় মস্তিষ্কে আঘাত লেগে দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি সমস্যা হতে পারে।
  • ভিটামিন ডি: রোদের সংস্পর্শে না থাকলে শরীরে ভিটামিন ডির অভাব দেখা দেয়, যা স্মৃতিশক্তির ওপর প্রভাব ফেলে।

পরিশেষে, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা থাইরয়েডের সমস্যাগুলো তরুণ বয়সে অবহেলা করা উচিত নয়। এ ধরনের শারীরিক জটিলতার সঠিক চিকিৎসা না করালেও স্মৃতি হারানোর ঝুঁকি বাড়তে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু মস্তিষ্কের স্মৃতিধারণ ক্ষমতাই যদি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে প্রিয় মানুষের মুখটাও হয়ে উঠতে পারে অচেনা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইসরাত জেরিন আলম -এর সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্মৃতি ঝাপসা হয়ে আসার সঙ্গে বয়সের সম্পর্ক আছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে কম বয়সেও স্মৃতিভ্রমে ভোগেন অনেকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর পেছনে দায় আছে ক্ষতিকর জীবনচর্চারও।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঘুমের ঘাটতি হলে নতুন কিছু শেখা এবং স্মৃতি সংরক্ষণের প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। স্ট্রেস হরমোনও বাড়তে পারে, নষ্ট হতে পারে হরমোনের ভারসাম্য।
  • প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই চেষ্টা করুন রোজ রাতে ঠিকঠাক ঘুমাতে। রাতে আগেভাগে ঘুমিয়ে ভোরবেলা ওঠার অভ্যাস করুন। ঘুমের সময়ের যেকোনো সমস্যার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মন এবং মস্তিষ্কের যত্ন না নিলে স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি বাড়ে। আরও খেয়াল রাখুন, বিষণ্নতা বা হতাশা যেন আপনার জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারে। সুস্থ থাকতে করণীয়গুলো জেনে রাখুন।
  • প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জীবনজুড়ে শেখার প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা উচিত। বই পড়া, সৃষ্টিশীল লেখালেখি, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা, অন্দরসজ্জা, রান্নাবান্না নানান কিছুই থাকতে পারে আপনার শেখার তালিকায়।
  • প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শরীরচর্চা কেবল শরীরকেই সুস্থ রাখে না, ভালো রাখে মন এবং মস্তিষ্ককেও।
শেয়ার করুন