পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী ১০ বিধায়কের সদস্যপদ বাতিলের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন রাজ্য বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু। গত বৃহস্পতিবার এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিধানসভার নির্বাচনে ‘জোড়া ফুল’ প্রতীকে জয়ী হওয়ার পর এই বিধায়করা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন আলাদা তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, দুর্নীতি ও অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে দলের ৬৫ জন বিধায়ক মমতার সঙ্গ ত্যাগ করেছেন। এরপর তাঁরা বিদ্রোহ করে তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গড়া আলাদা তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন। নির্বাচনে বিজেপি জয়ী হয়ে সরকার গড়লে মমতার তৃণমূলে ভাঙন শুরু হয়। দলের দুর্নীতির নানা অভিযোগ তুলে মমতার দলের ৬৫ জন বিধায়ক ঋতব্রতের গড়া আলাদা দলে যোগ দেন। এই ৬৫ বিধায়কের মধ্যে বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেসের মূল দলে থাকা বিধায়ক শোভন দেব চট্টোপাধ্যায় এই বিদ্রোহীদের মধ্যে ১০ জনের নামে অভিযোগ তোলেন। সেই আবেদনের শুনানি গ্রহণ করেন স্পিকার।
বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক শোভন দেব চট্টোপাধ্যায় দলবিরোধী আইনের আওতায় এই ১০ বিধায়কের সদস্যপদ বাতিলের আবেদন জানিয়েছিলেন। স্পিকারের দরবারে শুনানিতে অভিযুক্ত ১০ বিধায়ক ও তাদের আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। শুনানিকালে তারা যুক্তি প্রদর্শন করেন যে, শোভন দেব চট্টোপাধ্যায় যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেননি। তাদের দাবি, ১৯৮৬ সালের যে দলবিরোধী আইনের দোহাই দিয়ে এই আবেদন করা হয়েছে, তা বর্তমানে অকার্যকর। আইনগত ত্রুটির কারণে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন। তবে স্পিকার জানিয়েছেন, আইনি নিয়ম মেনে যথাযথ প্রক্রিয়ায় পরবর্তী সময়ে আবার আবেদন করা যাবে। বিকেলের শুনানিতে স্পিকার ডেকে নেন ১০ বিধায়ককে। এতে ১০ বিধায়ক এবং তাঁদের একজন আইনজীবী অংশ নেন।
এই ১০ জন বিধায়কের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, আকতারুজ্জামান ও বিপ্লব মিত্র। উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ২৯৪ আসনের বিধানসভায় মমতার মূল তৃণমূল ৮০টি এবং বাকি ২০৮টি আসনে জয়ী হয়েছিল। এরপরই রাজনৈতিক পরিস্থিতির পটপরিবর্তন ঘটে। নির্বাচন কমিশন এখন দলটির দুই অংশকে আলাদা নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের নাম হয়েছে ‘মমতা তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং তাদের প্রতীক ‘ফুটবল খেলোয়াড়’। অন্যদিকে, ঋতব্রতের নেতৃত্বাধীন নতুন দলটির নাম ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং তাদের প্রতীক ‘খাম’। রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম আসনের উপনির্বাচনে দল দুটি এই নতুন প্রতীক নিয়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। রাজ্য বিধানসভার এবারের নির্বাচনে মমতার মূল তৃণমূল কংগ্রেস ২৯৪ আসনের মধ্যে ৮০ আসনে জয়লাভ করেছিল এবং ২০৮ আসন পেয়েছিল।
সূত্র: প্রথম আলো








