প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর: তারিখ নিয়ে যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ:

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আলোচনা চললেও, চূড়ান্ত কোনো তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। আইপিইউর এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান হলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন।

ভারতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে সফরের খবরের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রতিমন্ত্রী সরাসরি মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। তিনি জানান, কোনো গুঞ্জনের ওপর ভিত্তি করে তিনি কথা বলতে আগ্রহী নন। বরং বাংলাদেশের পরিস্থিতি ও সিদ্ধান্তের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বাংলাদেশি ভেবে দুজনকে বিএসএফের গুলি, পরে জানা গেল তারা ভারতীয় নাগরিক।

তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়টি যে অমূলক নয়, তা নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, দুই দেশের সচিব ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সংলাপ অব্যাহত রয়েছে। এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো—বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করে পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলা।

শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের সময়সূচি নিয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময়ই এ ধরনের সংলাপের সুযোগ থাকে। তবে তার আগে দুই দেশের কর্মকর্তাদের পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি অনুকূল ও সহায়ক পরিস্থিতি তৈরি হওয়া প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ও ভারত উভয় পক্ষকেই সমানভাবে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, আলোচনার মাধ্যমেই বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান খুঁজতে আগ্রহী ঢাকা। দুই দেশের মধ্যে খোলামেলা ও আন্তরিক কূটনৈতিক সংলাপ নিয়মিত থাকলে দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি। এক টাকার মাস্টার: প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষক না হয়েও লুৎফর রহমান পাচ্ছেন অবসরভাতা। কারা মহাপরিদর্শক হচ্ছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আনোয়ারুল কবীর।

এ সময় প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু প্রতিকূলতার প্রসঙ্গও উঠে আসে। দিল্লিতে অবস্থান করে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে এমন কোনো কর্মকাণ্ড সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যেমন সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শন করছে, ভারত সরকারের কাছ থেকেও অনুরূপ দায়িত্বশীল সহযোগিতা প্রত্যাশা করে ঢাকা। ব্যবসা-বাণিজ্যে এগিয়ে আসতে তরুণদের প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির। সড়ক ছেড়েছেন অটোচালকরা, যান চলাচল স্বাভাবিক।

ভারত সফরের পাশাপাশি নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য একটি জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সব মিলিয়ে, ভারত সফরের বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চললেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং সময়সূচি নির্ধারিত হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারিভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

শেয়ার করুন