বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন কাজের অনুমতিপত্র বা ওয়ার্ক পারমিট, শ্রমিক আমদানির পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট শ্রম প্রকল্পগুলোর অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে লাওস। দেশটির শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছে যে, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যক্তি, কোম্পানি বা নিয়োগকর্তারা এখন থেকে কোনো বাংলাদেশি নাগরিককে নতুন করে কাজে নিয়োগ বা প্রবেশের অনুমতি দিতে পারবেন না।
গত ৯ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের জারি করা নির্দেশনায় এই কঠোর পদক্ষেপের পেছনের কারণগুলো ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মূলত অবৈধ অভিবাসন, মানবপাচার, অসাধু শ্রম দালালদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়োগকর্তাদের দায়িত্বহীনতা রোধ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সরকার অনুমোদিত বড় ধরনের অগ্রাধিকারমূলক সরকারি প্রকল্পগুলো এই স্থগিতাদেশের আওতামুক্ত থাকবে। এছাড়া বর্তমানে লাওসে কতজন বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন বা কোন নির্দিষ্ট খাতে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ থেকে লাওসে অভিবাসন মূলত নির্মাণ ও উৎপাদন খাতকেন্দ্রিক হয়ে থাকে।
এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। অনুমোদনহীন শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাকে প্রতি শ্রমিকের জন্য ২৫ লাখ লাও কিপ বা ১১০ মার্কিন ডলার জরিমানা গুনতে হবে। এছাড়া ভিন্ন শ্রম ইউনিটে কর্মী ব্যবহার বা পুনর্বণ্টন করলে নিয়োগকর্তাকে কর্মীপ্রতি ২০ লাখ লাও কিপ বা ৮৯ ডলার জরিমানা দিতে হবে। কোনো শ্রমিক নির্ধারিত কর্মস্থলের বাইরে কাজ করলে বা নিয়ম ভাঙলে তাকে ১০ লাখ লাও কিপ বা ৪৪ ডলার জরিমানা এবং ৩০ দিনের মধ্যে নিজ দেশে বহিষ্কার করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বহিষ্কারের যাবতীয় ব্যয় নিয়োগকর্তা বা লঙ্ঘনকারীকে বহন করতে হবে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, আইন অমান্যের ঘটনা পুনরাবৃত্তি হলে জরিমানার পরিমাণ তিন গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হবে। একই সাথে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যবসার লাইসেন্স বাতিলের মতো কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। লাওস সরকারের এই নতুন নিয়মাবলি অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চাকরির আরও তথ্য: কাতারে ফাইভ স্টার হোটেলে দারোয়ান পদে চাকরির সুযোগ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেই কেন এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দেশনায় স্পষ্ট কোনও কারণ উল্লেখ করা হয়নি। চাকরির আরও তথ্য: কাতার প্রবাসীদের জন্য কিছু নতুন চাকরির খবর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এছাড়া ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য লেবার ভিসা পারমিট অনুমোদন দেওয়াও বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কাতার প্রবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ আপডেটের খবর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে পারেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: গালফ বাংলা








