বিদেশে কর্মসংস্থানের সন্ধানে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বহির্গমন ছাড়পত্রের খরচ বাড়ছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে এ বাবদ কল্যাণ ফি ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় রবিবার এক পরিপত্রের মাধ্যমে এই নতুন ফি কার্যকরের ঘোষণা দেয়। দীর্ঘ সময় পর এ ফি পুনর্নির্ধারণের পেছনে ডলারের বাজারমূল্যের সঙ্গে সমন্বয় ও কর্মীদের সুরক্ষায় সেবার পরিধি বাড়ানোকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের উপ-পরিচালক শরিফুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, অক্টোবর মাসের প্রথম দিন থেকেই এই নতুন হারে ফি আদায় প্রক্রিয়া শুরু হবে। সাধারণত জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে বহির্গমন ছাড়পত্র নেওয়ার সময় এ ফি পরিশোধ করতে হয়। ২০১৫ সালে তৎকালীন সরকার কল্যাণ ফির হার ৩ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করেছিল। নতুন পরিবর্তনের ফলে বিদেশগামী কর্মীদের বহির্গমন ছাড়পত্র বাবদ আগের তুলনায় ২ হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হবে। তবে বিএমইটির স্মার্ট কার্ডের জন্য আগে যে ৫০০ টাকা ফি নেওয়া হতো, তা বর্তমানে আর দিতে হচ্ছে না। এছাড়াও কল্যাণ ফির পাশাপাশি কর্মীদের ১ হাজার টাকা বীমা ফি প্রদান অব্যাহত থাকবে।
কল্যাণ ফির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের একটি বড় অংশ প্রবাসী কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা ও বিভিন্ন কল্যাণমূলক সেবায় ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে বিদেশে কোনো কর্মী মৃত্যুবরণ করলে ঢাকা, চট্টগ্রাম বা সিলেট বিমানবন্দরে মরদেহ পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে দাফন ও পরিবহনের জন্য ৩৫ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়। এছাড়া মৃতের পরিবারকে এককালীন ৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
এই কল্যাণ ফি থেকে প্রাপ্ত অর্থ কেবল মৃত্যুজনিত সহায়তায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং প্রবাসী কর্মীদের চিকিৎসা সহায়তা, তাদের সন্তানদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তি এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ডেটাবেজে তথ্য সংযোজনসহ সামগ্রিক তদারকি কার্যক্রমে ব্যয় করা হয়। সরকারি সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কল্যাণমূলক সেবার মান বজায় রাখতেই এই ব্যয় সমন্বয় করা হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ২১ দিনে দেশে রেকর্ড পরিমাণ ২০৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কাতার প্রবাসীর স্ত্রী হত্যায় আসামি মিলনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দীর্ঘ সময় পর এবার সেই হার বাড়ানো হলো।
সূত্র: গালফ বাংলা








