মন্ত্রিসভার আকার বাড়তে পারে: আলোচনায় নতুন চার মুখ

প্রকাশ:

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের কোনো রদবদলের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বাড়াতে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত কাজের চাপ কমাতে মন্ত্রিসভার আকার সম্প্রসারণের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ক্ষমতাসীন দল ও মন্ত্রিসভা সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান কাঠামো ঠিক রেখেই নতুন চারজনকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আগামী ১৭ আগস্ট বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। এই সময়সীমাকে সামনে রেখে সরকারের প্রথম ছয় মাসের কর্মকাণ্ড, মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পরদিনই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ও নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের রূপরেখা ঘোষণা করেছিলেন। সেই অনুযায়ী সব মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে।

বর্তমানে কয়েকজন মন্ত্রীকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এর মধ্যে অর্থ ও পরিকল্পনা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক ও সমাজকল্যাণ, শিল্প-বাণিজ্য-বস্ত্র ও পাট, কৃষি-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং সড়ক-রেল-নৌপরিবহন খাতের মতো বিভাগগুলো উল্লেখযোগ্য। প্রশাসনিক কাজের চাপ কমিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আরও মনোযোগ দেওয়ার লক্ষ্যেই নতুন মুখ যুক্ত করার এই আলোচনা চলছে।

উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় নতুন মন্ত্রী হিসেবে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সেলিমা রহমান এমপি এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ এমপির নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শহিদুল ইসলাম বাবুল এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শামীম কায়সার লিংকনের নামও আলোচনায় রয়েছে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী, ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী এবং নির্ধারিত উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা দায়িত্ব পালন করছেন।

মন্ত্রিসভার একজন প্রভাবশালী সদস্য জানিয়েছেন, নতুন সদস্য যুক্ত করার বিষয়টি একান্তই প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তিনি যখনই চাইবেন, তখনই এটি বাস্তবায়িত হবে। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে পাওয়া ইঙ্গিত অনুযায়ী, কাউকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। বরং কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে কোথায় ঘাটতি রয়েছে তা চিহ্নিত করে নতুন দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে এক ধরনের ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট’ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এ বিষয়ে বলেন, ১৮০ দিনের কর্মসূচির মূল্যায়ন করা হবে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব মাধ্যম ও গণমাধ্যমের সহায়তায় মন্ত্রীদের কাজের খোঁজখবর নিয়েছেন। ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভায় কোনো পরিবর্তন আনলে তা প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব সিদ্ধান্তেই হবে। তার যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কারণ ১৮০ দিনের কর্মসূচি শেষ হবে আগামী ১৬ আগস্ট।

আমরা কতটা নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করেছি, প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব মাধ্যম আছে, গণমাধ্যম আছে—এসবের মাধ্যমে হয়তো খোঁজখবর নিয়েছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে দেশবাসীর যে প্রত্যাশা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার ছিল সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।’

তবে, বাড়তে পারে মন্ত্রিপরিষদের আকার।

মন্ত্রিপরিষদের একজন প্রভাবশালী সদস্য একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকাকে জানান, এ প্রক্রিয়া (নতুন সদস্য যোগ) বাস্তবায়নের একমাত্র এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর।

অর্থাৎ প্রথম ধাপে ‘রদবদল’ নয়, বরং ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট’ হতে পারে।

এসব রিপোর্ট মূল্যায়ন করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আমার বিশ্বাস, গত ছয় মাসে উনার যতগুলো কর্মকাণ্ড দেখতে পেয়েছি, যেগুলোর কোথাও কোনো ভুল হয়নি।’

ওনার সিদ্ধান্তকে আমরা অ্যাপ্রিশিয়েট করি।

শেয়ার করুন