সিরিয়ার দামেস্কের একটি ফৌজদারি আদালত দীর্ঘ ১৪ বছরের যুদ্ধকালীন অপরাধের বিচার শেষে এক ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার দেওয়া এই রায়ে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ, তার ভাই মাহের আল-আসাদ এবং তাদের চাচাতো ভাই আতেফ নাজিবকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাশার আল-আসাদ বর্তমানে রাশিয়ায় নির্বাসিত থাকায় তার অনুপস্থিতিতেই এই রায় কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আদালতের বিচারক আল-আরিয়ান জানিয়েছেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও সংগৃহীত প্রমাণাদি থেকে এটি স্পষ্ট যে, বাশার আল-আসাদ রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সর্বোচ্চ সিদ্ধান্তগ্রহণকারী হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধ, পূর্বপরিকল্পিত হত্যা এবং নির্যাতনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই তিনি রাশিয়ার আশ্রয়ে রয়েছেন। একই অপরাধে তার ভাই মাহের আল-আসাদকেও অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের সাবেক প্রধান আতেফ নাজিবকে সরাসরি আদালতে হাজির করে এই দণ্ড শোনানো হয়। গত বছরের জানুয়ারিতে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন। ২০১১ সালে দ্রা প্রদেশে আন্দোলনকারীদের ওপর তার পরিচালিত নির্মম দমন-পীড়নই দেশটিতে গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত করেছিল। নাজিবের বিরুদ্ধে শিশু হত্যা ও বন্দীদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আদালতে বন্দীদের খাঁচায় দাঁড়িয়ে তিনি নিজের রায় শোনেন।
২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে বর্তমানে রাশিয়ায় নির্বাসিত থাকা বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, নির্যাতন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ পাওয়ায় অনুপস্থিতিতেই এ রায় কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সূত্র: গালফ বাংলা








