সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের নিরাপত্তা বলয় লক্ষ্য করে আবারও ড্রোন হামলা চালানোর চেষ্টা করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠী। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সময়মতো সেগুলো শনাক্ত করে ভূপাতিত করেছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জোটের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। হুথি রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হেজাম আল-আসাদ বলেন, ‘অভিযানের শক্তি, ব্যাপ্তি ও প্রভাব যতই হোক না কেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী এটিকে পূর্ণ মাত্রার উত্তেজনার প্রস্তুতি হিসেবে একটি ছোট পরিসরের মহড়া হিসেবে দেখছে।’। এদিকে হুথি বাহিনী ইয়েমেনি বাহিনীর বিরুদ্ধে যে স্থল অভিযান চালাচ্ছে, তাতে দেশটিতে নতুন করে মানবিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জোটের মুখপাত্র জানান, ‘সন্ত্রাসী হুতি মিলিশিয়া’ রিয়াদের দিকে দুটি ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল। একই সময়ে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ধ্বংস করা হয়েছে। উল্লেখ্য, শহরটিতে একটি বিমানঘাঁটি রয়েছে।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
- ইরানকে আল্লাহ বিজয় দান করবেন বলে জানিয়েছেন মোজতবা খামেনি।
- উইটকফ-আরাগচি বৈঠকে হরমুজ খোলার বিষয়ে ইরানের কড়া শর্ত।
- সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের তেল বন্দর ইয়ানবু রক্ষায় সেনা পাঠাবে ফ্রান্স।
- গাজায় নিজস্ব ড্রোন বিস্ফোরণে দুই ইসরায়েলি সেনার মৃত্যু।
হুথিদের এই ক্রমবর্ধমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। ফ্রান্সের দূত ও নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান সভাপতি জেরোম বনফোঁ জানিয়েছেন, জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোয় চালানো এসব হামলায় শিশু ও নারীসহ অনেকে আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক উদ্বেগের মাঝেই এমন আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে হুথিরা।
চলতি বছরের জুলাইয়ে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ইয়েমেনের সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর যুদ্ধের ঝুঁকিতে পড়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, আগস্ট মাস থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যার মধ্যে ৭০ হাজারই শিশু। অন্যদিকে, হুথিরা লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকা দখল করে নৌ-অবরোধ তৈরি করেছে, যা জ্বালানি সরবরাহে সংকট ও দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। জুলাইয়ে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাত কয়েক বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে দেয়। এরপর ইয়েমেনকে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর যুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলে।
এদিকে সৌদি আরবের পাশে দাঁড়াতে মিত্র দেশগুলো সক্রিয় হচ্ছে। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় রিয়াদকে সহায়তা দিতে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধানদের মধ্যে আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে। এর অংশ হিসেবে তুরস্কের সেনাপ্রধান জেনারেল সেলসুক বায়রাকতারোগলু রিয়াদ সফরে গেছেন। যদিও মক্কা চুক্তির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন এখনো তুরস্কের পার্লামেন্টে পেন্ডিং থাকায় আপাতত সামরিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের দিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে আঙ্কারা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত আগস্টে স্বাক্ষরিত চুক্তির ভিত্তিতে ইতিমধ্যে নিউইয়র্কে বৈঠক করেছেন সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ জানিয়েছেন, লোহিত সাগরে তেল বন্দর ইয়ানবুর সুরক্ষায় রাডার ও আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানো হচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই সামরিক উপস্থিতির অর্থ সরাসরি যুদ্ধে জড়ানো নয়। এর আগে সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি হুথিদের নির্মূলে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। গত বৃহস্পতিবারও সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে হামলা চালানোর দাবি করেছে হুথিরা, যার বিপরীতে সৌদি কর্তৃপক্ষ ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের তথ্য জানিয়েছিল। এ ছাড়া ট্যাংকারে হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া এবং এসব তৎপরতার কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এর আগে হুতিদের ইয়েমেন থেকে নির্মূল না করা পর্যন্ত সেনাদের জীবন বাজি রেখে লড়াইয়ের কড়া নির্দেশ দেন সৌদি আরবের শীর্ষ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ গ্র্যান্ড মুফতি। এর আগে মক্কা, জেদ্দা ও প্রধান তেল বন্দর ইয়ানবুসহ বিভিন্ন এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারি করেছিল রিয়াদ।
সূত্র: Probash Khabor








