‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’ হিসেবে পরিচিত জোসে মরিনহো আবারও ফিরেছেন রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে। কয়েক বছর ধরে আধুনিক ফুটবলের সঙ্গে তার কৌশল মানানসই কি না, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ সংকটের মুহূর্তে তার ওপরই আস্থা রেখেছেন। ২০১০ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পর রিয়ালে যোগ দিয়ে পেপ গার্দিওলার বার্সেলোনার আধিপত্য ভেঙে দলকে শীর্ষে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এবারও নতুন করে দলকে ঢেলে সাজানোর দায়িত্ব পেয়েছেন এই অভিজ্ঞ কোচ।
গ্রীষ্মকালীন দলবদলের বাজারে রিয়াল মাদ্রিদ যেমন খেলোয়াড় বিক্রি করেছে, তেমনি রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে নতুন খেলোয়াড়ও দলে ভিড়িয়েছে। দল থেকে বিদায় নিয়েছেন দানি কার্ভাহাল, ডেভিড আলাবা ও দানি সেবায়োসের মতো অভিজ্ঞরা। অন্যদিকে, সাবেক কোচ আলভেরো আরবেলোয়ার হাত ধরে ফুলহামের কাছে খেলোয়াড় বিক্রিতে বড় অঙ্কের অর্থ পেয়েছে রিয়াল। এর মধ্যে গঞ্জালো গার্সিয়াকে ৪০ মিলিয়ন, সিজার পালাসিওসকে ১০ মিলিয়ন এবং মিগুয়েল অ্যাঞ্জেলকে ৩ মিলিয়ন ইউরোতে ফুলহামের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।
নতুন খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে বড় চমক ছিল আইভরিকোস্টের ১৯ বছর বয়সী ইয়ান দিওমান্দে। তাকে দলে ভেড়াতে রিয়াল মাদ্রিদ খরচ করেছে ১২৫ মিলিয়ন ইউরো, যা ক্লাবের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল চুক্তি। মরিনহোর ট্যাকটিকসে আফ্রিকান খেলোয়াড়দের সাফল্যের ইতিহাস মাথায় রেখেই এই বিনিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া রক্ষণভাগ মজবুত করতে স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী মার্ক কুকুরেয়াকে ৫৫ মিলিয়ন এবং ডেনজেল ডামফ্রিসকে ২০ মিলিয়ন ইউরোতে কেনা হয়েছে। কোনো ট্রান্সফার ফি ছাড়াই দলে যোগ দিয়েছেন বের্নাদো সিলভা ও ইব্রাহিমা কোনাতে।
সবচেয়ে নাটকীয় চুক্তিটি ছিল কার্লোস এস্পির। লেভান্তে থেকে এক দিনের নোটিশে তাকে দলে এনেছেন মরিনহো, যিনি প্রথম ম্যাচেই নিজের ঝলক দেখিয়েছেন। তবে মাঝমাঠের শূন্যতা এখনো রিয়ালের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ক্রুস ও মদরিচের অভাব পূরণ করা এখনো সম্ভব হয়নি। মরিনহো রদ্রিকে দলে পেতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। তবে অভিজ্ঞ এই কোচ তার নিজস্ব কৌশলে দলের এই দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার পরিকল্পনা করছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কাঠখোট্টা কথাবার্তা আর চালচলনের জন্য তিনি বরাবরই আলোচনার তুঙ্গে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু কয়েক বছর ধরেই আলোচনা ছিল, কথার ধার বাড়লেও ট্যাকটিসের ধার কমে গেছে অভিজ্ঞ এই কোচের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অনেকে বলছেন তাঁর খেলার ধরন আধুনিক ফুটবলের সঙ্গে আর যায় না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই তো শীর্ষ পাঁচ লিগ ছেড়ে ফেনারবাচ, বেনফিকায় ফিরে গিয়েছিলেন মরিনহো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বার্সায় গড়া পেপ গার্দিওলার রাজত্ব চুরমার করে রিয়ালকে তুলেছিলেন শীর্ষে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মরিনহোর ক্যারিয়ারে মাদ্রিদই একমাত্র ক্লাব, যেখান থেকে বিদায় নিয়েছেন পুরো চুক্তি সম্পন্ন করে।
সূত্র: প্রথম আলো








