আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই শুরু করেছে বিএনপি। প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে এলাকায় জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, সততা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং দলের প্রতি আনুগত্যকে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে ধরা হচ্ছে। এছাড়া বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় থাকা ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। এবার স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিটি পদে একক প্রার্থী নিশ্চিত করার বিষয়ে হাইকমান্ড থেকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দলীয় প্রতীক না থাকায় বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার যে আশঙ্কা রয়েছে, তা মোকাবিলায় আগেভাগেই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে দলটি।
প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ার বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, তৃণমূলের ইউনিটগুলো স্থানীয় নেতাদের সাথে আলোচনা করে একক প্রার্থী নির্ধারণ করবে। জেলা ও মহানগর নেতাদের সহযোগিতায় এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে জেলা, উপজেলা ও মহানগর নেতাদের এ বিষয়ে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সাথে সমন্বয় করে প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন। বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা করা হবে, তবে তাতে ব্যর্থ হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা অনিবার্য।
বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি গুলশানে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নেতাদের সাথে বৈঠক করেছেন। সেখানে তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শৃঙ্খলা বজায় রাখার কড়া বার্তা দিয়েছেন। এর আগে গত ৯ই মে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করার আহ্বান জানান। নেতাকর্মীদের কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের ওপর জোর দেন তিনি।
বর্তমানে সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে দায়িত্বরত দলীয় প্রশাসকদের মধ্য থেকেও যোগ্যদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তাদের কাজের মূল্যায়ন ও সফলতার ওপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও প্রশাসকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত যোগ্যতা অনুযায়ী এবং স্থানীয় এমপিদের সাথে সমন্বয় করে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীমও একই সুর মিলিয়েছেন; তিনি জানান, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী জনগণের কাছে জনপ্রিয় ও ত্যাগী নেতাদেরই প্রাধান্য দেয়া হবে।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন চলতি বছরের শেষদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে চায়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন জানিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলেই বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করবে। বর্তমানে প্রক্রিয়াটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থীদেরই মনোনয়ন দেয়ার বিষয়ে দল সতর্ক রয়েছে।
সূত্র: মানবজমিন








