হবিগঞ্জে জিপিএ-৫ জয়ী শিক্ষার্থীদের উৎসবমুখর সংবর্ধনা

প্রকাশ:

‘ওয়াও! তুই কখন আসলি?’—অনেকদিন পর বন্ধুদের দেখা পেয়ে এভাবেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছিল একদল শিক্ষার্থী। হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যেন বন্ধুদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। রোববার সকালের অঝোর বৃষ্টিও শিক্ষার্থীদের প্রাণোচ্ছল উপস্থিতিকে ম্লান করতে পারেনি। ভিজে বা আধভেজা অবস্থায় অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হয়ে তারা একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছে।

‘স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ স্লোগান নিয়ে শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় ও আয়োজনে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সারা দেশের ৬৪ জেলায় সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে হবিগঞ্জের এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল ৯টার আগেই অভিভাবকদের সঙ্গে অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকে কৃতী শিক্ষার্থীরা। সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বন্ধুসভার সদস্য মোহাম্মদ তোফাজ্জল শাকিল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. মোজাম্মেল হক। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি সততা ও মমতা থাকা একান্ত প্রয়োজন। তিনি তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে লেখাপড়ার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাবেদ জিল্লাল বারী বলেন, বর্তমান প্রজন্মের মেধাবীরাই হলো তারুণ্যের আসল শক্তি, যারা ভবিষ্যতে নতুন দেশ গড়ার মূল কারিগর হিসেবে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ বি কে জি সি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নাছিমা আক্তার খানম এবং বাংলা একাডেমি পদকপ্রাপ্ত লোকসংস্কৃতি গবেষক ও সিলেটের নিজস্ব প্রতিবেদক সুমনকুমার দাশ। এছাড়া মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী তাজওয়ার হাসনাত ত্বোহা তাঁর সাফল্যের পেছনের গল্প শিক্ষার্থীদের শোনান। অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন সাবিনা চৌধুরী। অনুষ্ঠানজুড়ে শিক্ষার্থীদের মাদক, মিথ্যা ও মুখস্থবিদ্যার বিরুদ্ধে শপথ পাঠ করানো হয়।

সাংস্কৃতিক পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী শাহ আলম চৌধুরী মিন্টু, বাউল রুবিনা সরকার ও বিনয় সূত্রধর। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে ঘিরে স্থাপন করা বিভিন্ন স্টলে শিক্ষার্থীদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। কুইজ প্রতিযোগিতা ও চরকি ঘোরানোর খেলায় মেতে ওঠে তারা। নাহিদ ইসলাম ও আবির আহমেদের মতো অনেক শিক্ষার্থী বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে পেরে দারুণ খুশি। অনুষ্ঠানে তাবাচ্ছুম নাজিয়া, অধরা চক্রবর্তী, তাছকিয়া আক্তার নুহা, আরাবী আলম রোজা, আশরাফুল আনাম শুভ, পূজা কান্তি দাশ, মো. মানছুরুল ইসলাম সোহান, অনিন্দ্য সরকার, গৌরভ দাস ও জান্নাতুল মাওয়া স্বর্ণা কুইজ বিজয়ী হিসেবে পুরস্কার লাভ করে। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সিলেটের নিজস্ব প্রতিবেদক সুমনকুমার দাশ ও হবিগঞ্জের নিজস্ব প্রতিবেদক হাফিজুর রহমান।

উল্লেখ্য যে, এই আয়োজনটি পাওয়ার্ড বাই বিকাশ এবং সহযোগিতায় ছিল কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা-গ্রী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও বন্ধুসভা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দুজনই শিখো- জিপিএ-৫ কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসে খুঁজছিল পরিচিত মুখ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হবিগঞ্জে জিপিএ-৫ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এমন দৃশ্য দেখা গেল আজ রোববার সকালে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মোজাম্মেল হক কৃতী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, তুমি যতই দক্ষ হও তোমার মধ্যে যদি সততা না থাকে, মমতা না থাকে; তাইলে কিন্তু তুমি সফল হলে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তুই কখন আসলি?’—দূর থেকে বন্ধুর চিৎকার শুনে ঘুরে তাকাল মিফতাহুল জান্নাত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মুহূর্তেই মুখে হাসি সুমাইয়া জাহানের। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একটু পরেই দেখা মিলল সহপাঠী নুসরাত সাদিয়া, তাসনিয়া তানিশার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: দুজনের কথায়-কথায় যোগ দিলেন তাবাসুম চৌধুরী ও সায়মা ইসলাম। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অপরিচিত ভিড়টা মুহূর্তেই হয়ে উঠল চেনাজানা বন্ধুদের মিলনমেলা।

শেয়ার করুন