ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের তৎপরতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জেদ্দায় অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় আঞ্চলিক অস্থিরতা নিরসনে কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।
এর আগে সৌদি যুবরাজ হুথিদের বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে সহায়তার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের অনুরোধ করেছিলেন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি মার্কিন সেনা পাঠানোর বিষয়ে সম্মতি দেননি। এর পরিবর্তে ওয়াশিংটন রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেছে।
সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর এবং জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হুথিদের হামলার তীব্রতা সাম্প্রতিক সময়ে অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ঘেঁষে বাব আল-মান্দাব প্রণালির দিকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির এগিয়ে চলা আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হুথিদের এই ধারাবাহিক তৎপরতা আঞ্চলিক সংঘাতের পরিসর আরও বিস্তৃত করার পথ তৈরি করছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও ৮টি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের হামলা এবং ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে চীনা স্যাটেলাইট ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ায় উত্তেজনা আরও ঘনীভূত হয়েছে। এছাড়া, ইরানি হামলায় তিন মার্কিন সেনার মৃত্যু নিয়েও বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে তোলপাড় চলছে।
এরই মধ্যে সৌদিতে চালানো এক হুথি হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭৩ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরান একদিকে ট্রাম্পের মুখের আদলে নিজেদের মানচিত্র প্রকাশ করে হুঁশিয়ারি দিচ্ছে, অন্যদিকে সংঘাতের উত্তাপ বাড়ছে লোহিত সাগর থেকে হরমুজ পর্যন্ত।
নিরাপত্তা সংকটের পাশাপাশি আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশে জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার খবরও আসছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২১ জন। এছাড়া, গ্যাস সরবরাহ সংকটে মঙ্গলবার অনেক এলাকা ১৪ ঘণ্টা অন্ধকারে থাকার ঘোষণা এসেছে এবং ময়মনসিংহের হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনাও ঘটেছে।
মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের তাদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র সবসময় সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস। সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন কমান্ডারের এই সফর আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সৌদি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
সূত্র: Probash Khabor








