ইসরাইলি অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রাফায়েলের সাথে জার্মান গাড়ি নির্মাতা ভক্সওয়াগনের সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টি নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে জার্মানির বামপন্থি দল দ্য লেফট। দলটির নেতাদের মতে, ওসনাব্রুক শহরে অবস্থিত ভক্সওয়াগনের কারখানাটিকে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের কেন্দ্রে রূপান্তর করার পরিকল্পনা ওই শহরের দীর্ঘদিনের শান্তির ঐতিহ্যের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
বর্তমানে ওসনাব্রুক কারখানায় রাফায়েলের বিখ্যাত আয়রন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন উপাদান তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এই প্রকল্পের আওতায় সামরিক ট্রাক, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযন্ত্র এবং বিদ্যুৎ সরবরাহকারী যন্ত্র তৈরির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভক্সওয়াগন বর্তমানে চীনের তীব্র প্রতিযোগিতা, দুর্বল চাহিদা এবং উচ্চ উৎপাদন ব্যয়ের কারণে বড় ধরনের পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৭ সালের পর এই কারখানায় গাড়ি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায়, বিকল্প হিসেবে প্রতিরক্ষা খাতের সাথে অংশীদারত্বের বিষয়টি সামনে এসেছে।
ওসনাব্রুকের মেয়র পদপ্রার্থী ও লেফট পার্টির নেতা থমাস গ্রস এই উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি জানান, তাদের দল কারখানাটিতে সামরিক উৎপাদনের পরিবর্তে বেসামরিক মিনিবাস তৈরির প্রস্তাবকে সমর্থন করে। গ্রসের মতে, গ্রামীণ এলাকায় গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে এই ধরনের যানবাহনের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। তিনি আরও বলেন, সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর চেয়ে জলবায়ু সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বিনিয়োগ করা বর্তমান সময়ের জন্য অনেক বেশি জরুরি।
গাজা যুদ্ধের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের কোনো প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে জার্মান শিল্পপ্রতিষ্ঠানের এই ধরনের সামরিক সহযোগিতা দেশটির পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতিকে আরও বিতর্কিত করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ওসনাব্রুকের ‘শান্তির শহর’ হিসেবে পরিচিতি ও ঐতিহ্যের সাথে সামরিক শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনা কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, এই বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে জার্মানিতে এখন ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর, রয়টার্স ও আনাদুলু এজেন্সি।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








