বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার শিশু নিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী মিদুলা রহমান ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে অসাধারণ কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছে। প্রতিটি বিষয়ে সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জনের মাধ্যমে সে নিজের কঠোর পরিশ্রম ও মেধার স্বাক্ষর রেখেছে। মিদুলার এই সাফল্যে তার পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। বাবুগঞ্জের শিক্ষাঙ্গনে তার এই অর্জন অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে মিদুলা জানায়, তার স্বপ্ন হলো কোনো স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি বিশেষ আগ্রহ থেকে সে একজন দক্ষ কম্পিউটার প্রকৌশলী হতে চায়। নিজের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে দেশের কল্যাণে অবদান রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে সে। এই সাফল্যের পেছনে নিয়মিত পড়াশোনা, শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং পরিবারের অকুন্ঠ সমর্থন ও নিজের আত্মবিশ্বাস বড় ভূমিকা রেখেছে বলে সে মনে করে।
মিদুলার শিক্ষক ও অভিভাবকরা তার এই অর্জনে অত্যন্ত গর্বিত। শিশু নিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সজল দাস বলেন, মিদুলা শুরু থেকেই অত্যন্ত মনোযোগী, পরিশ্রমী এবং উচ্চ লক্ষ্যনির্ভর একজন শিক্ষার্থী ছিল। তার আন্তরিকতা ও নিয়মিত প্রচেষ্টাই তাকে এই সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, মিদুলা সবসময়ই নতুন কিছু শেখার আগ্রহ নিয়ে পড়াশোনা করত। তার এই সাফল্য বিদ্যালয়ের জন্য যেমন গৌরবের, তেমনি অন্যদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
মিদুলার বাবা মিজানুর রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন এবং তার মা একজন গৃহিণী। মেয়ের এই সাফল্যে গর্বিত বাবা মিজানুর রহমান বলেন, মিদুলার এই অর্জনে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। সে যেন ভবিষ্যতে তার কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন পূরণ করতে পারে এবং একজন ভালো মানুষ হিসেবে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারে, সেজন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি। যথাযথ সুযোগ ও দিকনির্দেশনা পেলে মিদুলা ভবিষ্যতে তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে বলেই প্রত্যাশা তার পরিবার ও শিক্ষকদের।
উল্লেখ্য যে, মিদুলা রহমান পত্রিকার বাবুগঞ্জ (বরিশাল) উপজেলা প্রতিনিধি আরিফ হোসেনের আপন ভাগনি। মেধাবী এই শিক্ষার্থীর সাফল্যে বাবুগঞ্জ এলাকায় বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছেন স্থানীয়রা।
সূত্র: Daily Amar Desh








