জাল নথিতে ৩০ কোটি টাকা ঋণ

প্রকাশ:

তিন সহোদরের স্বাক্ষর জাল করে ব্যক্তিগত গ্যারান্টিপত্র তৈরির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার অপরাধে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শাহ আলমকে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আদালত আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন, যা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না, তাই তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানামূলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি মোকাররম হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলায় সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে জাল স্বাক্ষরে ব্যক্তিগত গ্যারান্টিপত্র তৈরি করে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের অভিযোগটি আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। মামলার বিবরণে জানা যায়, আসামি শাহ আলম ও তার ছেলে এস এম পারভেজ আলম মিলে ২০০৪ সালে তিন সহোদরের স্বাক্ষর জাল করে চারটি গ্যারান্টিপত্র তৈরি করেন। প্রতিটি পত্রে ২৫ কোটি টাকা করে ঋণের প্রতিশ্রুতি দেখানো হয়েছিল। এই জাল নথিপত্র ব্যবহার করে ২০১২ সালে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের প্রিমিয়ার ব্যাংক শাখা থেকে পাঁচটি এলটিআর ও একটি সিসি (হাইপো) ঋণের বিপরীতে ২৯ কোটি ৯৯ লাখ ৫৯ হাজার ২৮২ টাকা ঋণ নেওয়া হয়। এসব গ্যারান্টিপত্রে প্রত্যেকের নামে ২৫ কোটি টাকা করে প্রদর্শন করা হয়।

ঋণ নেওয়ার পর মাত্র ৮ কোটি ৩২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৪৮ টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। ২০১৪ সালের ১১ আগস্টের হিসাব অনুযায়ী, সুদ ও অন্যান্য চার্জসহ বকেয়া ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯ কোটি ৬৮ লাখ ১৪ হাজার ৭২ টাকা। এই জালিয়াতির ঘটনায় ২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক এইচ এম আখতারুজ্জামান বাদী হয়ে নগরের কোতোয়ালি থানায় মামলাটি দায়ের করেন। পরে তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। দণ্ডপ্রাপ্ত শাহ আলম নগরের খুলশী আবাসিক এলাকার মফজল আহমদের ছেলে।

শেয়ার করুন