ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকের একাংশ’ শিরোনামে ছয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তির ছবির সঙ্গে নাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া গেছে। সংগ্রহশালায় প্রদর্শিত এসব ছবি সংশ্লিষ্ট সাহিত্যিকদের নয় বলে অভিযোগ ওঠার পর তীব্র সমালোচনার মুখে কর্তৃপক্ষ সেগুলো সরিয়ে ফেলেছে এবং নতুন ছবি স্থাপন করা হয়েছে।
সংগ্রহশালার ওই ফ্রেমে পল্লিকবি জসীমউদ্দীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষক শহীদ মুনীর চৌধুরী, বাংলা একাডেমির সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম ফজলুল হক, কবি আসাদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আবুল ফজল ও ভাষাবিদ মুহম্মদ এনামুল হকের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর পর্যবেক্ষণ করে জানিয়েছেন, এদের মধ্যে জসীমউদ্দীন, মুনীর চৌধুরী, আবুল কাসেম ফজলুল হক এবং আসাদ চৌধুরীর ছবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চেহারার কোনো মিল নেই। আবুল ফজলের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য, কারণ তাঁর যে ছবিটি পরিচিত, তার চেয়ে ভিন্ন ছবি সেখানে দেওয়া হয়েছিল। শুধুমাত্র মুহম্মদ এনামুল হকের ছবিটির ক্ষেত্রে কিছুটা সাদৃশ্য পাওয়া গেছে।
অধ্যাপক তারিক মনজুরের মতে, এই ছবিগুলো তৈরির ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। এছাড়াও তিনি এই তালিকাটি অসম্পূর্ণ বলে সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকের সংখ্যা এতো বিশাল যে একটি দেয়ালে সবাইকে স্থান দেওয়া সম্ভব নয়, তাই এমন খণ্ডিত তালিকা প্রকাশ করা অযৌক্তিক।
ডাকসু কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, ছবিগুলো ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম ঝুমা জানান, নকশা করার সময় ছবির মান বা রেজল্যুশন বাড়ানোর প্রক্রিয়ায় দু-তিনটি ছবির চেহারায় বিকৃতি ঘটে। এটি এআই প্রযুক্তির ব্যবহার নয় বলে দাবি করে তিনি জানান, ছবিগুলো একসঙ্গে থাকায় শুরুতে বিষয়টি তাদের নজরে পড়েনি। পরে বিষয়টি নজরে আসার পর ডিজাইনারের মাধ্যমে নতুন ছবি তৈরি করে ১৪ সেপ্টেম্বর সেগুলো প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সংস্কার শেষে ডাকসুর সংগ্রহশালাটি পুনরায় জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এরপর থেকে সেখানে প্রদর্শিত ছবি ও নিদর্শনের বিন্যাস নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। সংস্কারকৃত সংগ্রহশালায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বেশ কিছু ছবি বাদ দেওয়ার পাশাপাশি মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি এবং ছাত্রসংঘের বিতর্কিত নেতা আব্দুল মালেকের ছবি স্থান পায়। একটি ছবিতে জিন্নাহর ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চের রেসকোর্স ময়দানের ভাষণের উদ্ধৃতিও যুক্ত করা হয়েছিল।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ১৪ সেপ্টেম্বর একজন শিক্ষার্থী জিন্নাহর ছবিগুলো ছিঁড়ে ফেলেন। একই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফেডারেশনের নেতা-কর্মীরা সংগ্রহশালায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার একটি ছবি টানিয়ে প্রতিবাদ জানান।
মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতির তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৪ সেপ্টেম্বর একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। সংগ্রহশালার এমন পরিবর্তন ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের ছবি প্রদর্শন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শ্মশ্রুমণ্ডিত ভিন্ন আবুল ফজলই আমাদের কাছে পরিচিত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই নির্দিষ্ট কয়েকজনের ছবি টাঙানো সমীচীন হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নকশার সময় ছবির মান বাড়াতে গিয়ে কয়েকটি ছবির চেহারা বদলে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সে ক্ষেত্রে ছবিগুলোর কোয়ালিটি এনহ্যান্স করতে গিয়ে হয়েছে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর নতুন ছবি পাঠানো হলে গতকাল তা প্রিন্ট করে সংগ্রহশালায় আগের ছবি পরিবর্তন করে এই ছবি লাগানো হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংগ্রহশালাটি সংস্কারের পর ১৩ সেপ্টেম্বর আবার চালু করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংস্কারের পর সেখানে বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের ছবি ও নিদর্শনের বিন্যাসে পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একটি ছবির সঙ্গে ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে তাঁর দেওয়া বক্তব্যের তথ্যও রাখা হয়েছে।
সূত্র: প্রথম আলো








