নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের গোপীনগর পানবোরাম গ্রামে একটি বড় ধরনের নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি হত্যা মামলা আপস করার জন্য চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে স্থানীয় এক কৃষকের ২২ বিঘা জমির প্রায় ১৩ হাজার কলাগাছ রাতের আঁধারে কেটে ফেলা হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা এই কলাবাগানে প্রবেশ করে গাছগুলো নিধন করে, যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের প্রায় ৩৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও বিনিয়োগে গড়ে তোলা এই বাগানের প্রতিটি গাছেই কলা ধরেছিল এবং আগামী তিন মাসের মধ্যেই সেগুলো বাজারজাত করার উপযোগী হতো। পূর্বশত্রুতার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার পানবোরাম এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, তার পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয়রা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনে বক্তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানান। স্থানীয়দের মতে, একজন কৃষকের দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ এভাবে নষ্ট করে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এর পেছনে জড়িতদের খুঁজে বের করা জরুরি।
ঘটনার খবর পেয়ে পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বাগান ঘুরে দেখেন এবং ঘটনার বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। এ বিষয়ে ওসি নিয়ামুল হক জানান, ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে সন্দেহভাজন হিসেবে তুহিন হোসেন (৩০) নামে এক যুবককে শুক্রবার দুপুরে আটক করা হয়েছে। তার বাড়ি উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের শ্যামবাটি গ্রামে। সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে এ ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ঘটনায় অবশেষে সন্দেহজনকভাবে তুহিন হোসেন (৩০) নামে এক যুবককে শুক্রবার দুপুরে আটক করেছে থানা পুলিশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলন আসার পরপরই এভাবে গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় কৃষক চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ








