নিউইয়র্কে আইসিই অভিযানের সময় অভিবাসীকে গুলি, গাড়িতে ছিল শিশু

প্রকাশ:

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্রঙ্কসে অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই’র একটি অভিযানে এক ডমিনিকান বংশোদ্ভূত অভিবাসীকে গুলি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার কিছু পরে মার্বেল হিল এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের প্রেক্ষাপটে নিউইয়র্ক শহরে ফেডারেল সংস্থাটির এটিই প্রথম গোলাগুলির ঘটনা। কে বা কাদের লক্ষ্য করা হচ্ছে, তা নিয়ে কিছু রিপাবলিকান নেতার মনে অস্বস্তি থাকা সত্ত্বেও অভিবাসন নিয়ে করা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ট্রাম্প প্রশাসন জোর গতিতে এগোচ্ছে।

ঘটনার সময় অস্কার বেলগাল নামের ২৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি গাড়ির ভেতরে ছিলেন। তাঁর গাড়ির পেছনের আসনে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু ছিল, যাকে ওই ব্যক্তির সন্তান বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৌভাগ্যবশত শিশুটি শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে এবং তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সূত্রটি আরও জানায়, ওই পাঁচ বছরের শিশুটিরও কোনো ক্ষতি হয়নি। শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ বা এনওয়াইপিডির কমিশনার জেসিকা টিশ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঘটনাস্থলের এনওয়াইপিডি ক্যামেরা থেকে প্রাপ্ত ভিডিওতে দেখা যায়, অস্কার বেলগাল তাঁর গাড়িটি পার্কিংয়ের দিকে সরাচ্ছিলেন। এ সময় সাধারণ পোশাকে থাকা একজন ফেডারেল কর্মকর্তা অস্ত্র হাতে চালকের জানালার দিকে এগিয়ে যান। আরেক কর্মকর্তা গাড়ির সামনের দিক দিয়ে এগোলে গাড়িটি সামনের দিকে চলে যায় এবং এক পর্যায়ে ক্যামেরার সীমার বাইরে চলে যাওয়ায় সরাসরি গুলি চালানোর মুহূর্তটি রেকর্ড হয়নি।

তদন্ত অনুযায়ী, অন্তত একজন আইসিই এজেন্ট সাত রাউন্ড গুলি চালিয়েছেন। এর একটি গুলি বেলগালের ঘাড়ের বাঁ দিকের পাশ দিয়ে চলে যায়, ফলে তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হন। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তথ্যমতে, ওই অভিবাসীর আঘাত খুব গুরুতর নয়।

সাক্ষীদের বর্ণনায় জানা যায়, অভিযানে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের পরনে উজ্জ্বল হলুদ রঙের কনস্ট্রাকশন ভেস্ট ছিল এবং তাঁরা মুখে মাস্ক পরেছিলেন। তাঁদের আইসিই এজেন্ট হিসেবে শনাক্ত করার মতো কোনো চিহ্ন সেখানে ছিল না। এ সময় তারা বেশ কয়েকটি গুলির শব্দ ও মানুষের আর্তচিৎকার শুনতে পান।

ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএসের দাবি অনুযায়ী, বেলগালের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড রয়েছে। তারা জানায়, ওই ব্যক্তির ‘ট্রিনিতারিওস’ অপরাধী চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ আছে এবং এর আগে ডাকাতি, মাদক ব্যবসা ও অস্ত্র রাখার অভিযোগে তাঁর নামে একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তারের নজির রয়েছে। সিএনএন এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউস এবং ডিএইচএসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

গোলাগুলির এই ঘটনায় দুজন এজেন্টও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফেডারেল সূত্রগুলোর ধারণা, গ্রেপ্তার অভিযানের সময় কোনো গাড়ি দুর্ঘটনার জেরে তারা আহত হয়ে থাকতে পারেন, তবে এটি নিশ্চিত নয়।

ঘটনার পর নিউইয়র্ক শহরের মেয়র জোহরান মামদানি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ডিএইচএস প্রধান মার্কওয়েইন মুলিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলে অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। মেয়র বলেন, আইসিই এজেন্টদের উপস্থিতিতে শহর আরও অনিরাপদ হয়ে পড়ছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পদক্ষেপগুলো শহরকে আরও অনিরাপদ করে তুলছে এবং মানুষের মনে আতঙ্কের সৃষ্টি করছে।’।

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকুলও বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, নিউইয়র্কবাসীর পক্ষে তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি অবিলম্বে শহরে আইসিইর অভিযান স্থগিতের দাবি তুলেছেন এবং গুলির ঘটনার বডি ক্যামেরা ফুটেজ থাকলে তা জনসমক্ষে প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিউইয়র্ক নগরে আইসিইর অভিযান বন্ধ করা হোক।

বর্তমানে আহত অভিবাসীকে এনওয়াইপিডির হেফাজত থেকে সরিয়ে আইসিইর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ঠিক কী পরিস্থিতিতে এই গুলি চালানো হয়েছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে জানা গেছে, প্রতিদিন এক হাজার অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তারের লক্ষ্যমাত্রা পূরণেই আইসিই বর্তমানে অত্যন্ত তৎপর রয়েছে। ২৮ বছর বয়সী এই ব্যক্তিকে কেন গুলি করা হয়েছে, সে ব্যাপারে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি।

শেয়ার করুন