প্রবাসী সিআইপি নির্বাচনের পরিধি বাড়ল: এবার ১৩৫ জনকে দেওয়া হবে বিশেষ মর্যাদা

প্রকাশ:

প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ, বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণ এবং রপ্তানি বাণিজ্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা সিআইপি মর্যাদার পরিধি সম্প্রসারণ করেছে সরকার। আগে সিআইপি হিসেবে ৯০ জনকে নির্বাচন করা হলেও, এবার তিনটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১৩৫ জন অনাবাসী বাংলাদেশিকে এই মর্যাদার জন্য বাছাই করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (অনিবাসী বাংলাদেশি) নির্বাচন নীতিমালা, ২০১৮’-এর অধীনে এই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

সিআইপি নির্বাচনের ক্যাটাগরি ও যোগ্যতা

  • শিল্পে বিনিয়োগ: দেশের শিল্পখাতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রথম ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ৫০ জনকে নির্বাচিত করা হবে। এর জন্য ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে শিল্পখাতে কমপক্ষে ৩ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ মূলধন বিনিয়োগের শর্ত রয়েছে।
  • বৈধ পথে রেমিট্যান্স: দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ৭৫ জনকে সিআইপি হিসেবে বাছাই করা হবে। এই মর্যাদার জন্য ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশে অন্তত ১ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ করতে হবে।
  • পণ্য রপ্তানি: তৃতীয় ক্যাটাগরিতে বিদেশে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সর্বোচ্চ ১০ জনকে সিআইপি করা হবে। এ ক্ষেত্রে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কমপক্ষে ৩ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রমাণস্বরূপ প্রসিডস রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেট (পিআরসি) থাকতে হবে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এই নির্বাচনের জন্য আবেদন আহ্বান করেছে। আগ্রহী প্রবাসীরা ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। এছাড়া বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন বা সরাসরি মন্ত্রণালয়ে হার্ড কপি জমা দেওয়ার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ আবেদন সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে এবং কর্তৃপক্ষ যেকোনো আবেদন বা কার্যক্রম কারণ দর্শানো ছাড়াই স্থগিত বা বাতিল করার অধিকার রাখে।

গত পাঁচ বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৩২৬ জন প্রবাসী বাংলাদেশি সিআইপি মর্যাদা পেয়েছেন। এই তালিকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসীদের অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি। শুধু রেমিট্যান্স পাঠানোর ভিত্তিতেই গত পাঁচ বছরে দেশটি থেকে ১৪৯ জন সিআইপি হয়েছেন। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে যথাক্রমে ৩০, ৩৭, ২৬, ১৬ ও ৪০ জন প্রবাসী এই স্বীকৃতি পেয়েছেন। এছাড়া একই সময়ে আমিরাত থেকে আরও ১০ জন প্রবাসী বাংলাদেশি পণ্য আমদানিকারক হিসেবে সিআইপি মর্যাদা লাভ করেছেন।

রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের শর্তটি প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে, যার ফলে প্রতি বছর আবেদনের সংখ্যা বাড়ছে। এই ক্রমবর্ধমান আগ্রহের কারণেই সরকার সিআইপির সংখ্যা ৯০ থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ জনে উন্নীত করেছে। প্রবাসীদের বিনিয়োগ ও বৈধ পথে অর্থ প্রেরণে উৎসাহিত করার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে তাদের সম্পৃক্ততা আরও সুদৃঢ় করাই এই সরকারি উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রসিডস রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেট (পিআরসি) অনুযায়ী বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিকারক এবং অধিক মূল্য সংযোজনসম্পন্ন পণ্য রপ্তানিকারকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

শেয়ার করুন